২০১৫ সালেও কলকাতার নানা রুটে প্রায় ২৫টি ট্রাম চলত। কিন্তু এখন তা হাতেগোনা সংখ্যায় এসে ঠেকেছে। ট্রামকে পাকাপাকিভাবে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। এর ফলে তীব্র প্রতিবাদ জানান কলকাতাবাসী। এবার তাই ট্রামকে দীর্ঘজীবী করতে ভাইফোঁটার দিন ট্রামের কপালে ফোঁটা দিলেন দিদি-বোনেরা।
কলকাতার বুক থেকে উঠে যাবে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম, এমন সিদ্ধান্তই নেয় সরকার। সরকারের যুক্তি, সামান্য কয়েকটা ট্রাম চালিয়ে ট্রামের বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ত্রামে সেভাবে যাত্রীও হয় না। সেই কারণে ট্রাম বন্ধ করে দেওয়ার কথা ওঠে। সেই সময় নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশ সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
কলকাতার ঐতিহ্যকে এভাবে তুলে দেওয়া যাবে না বলে দকাবি তোলেন সকলে। এবার সেই ট্রামে পড়ল ফোঁটা। কলকাতার এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ভাইফোঁটার দিন ট্রামকে ফোঁটা দিলেন মহিলারা। এ যেন এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা।
কলকাতার বোনেদের দাবী, ট্রাম দীর্ঘজীবী হোক। সেই কারণেই ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে ভাইফোঁটা দেওয়ার উদ্যোগ তাদের। এক মহিলা বলেন, “আমরা ট্রামকে খুব ভালবাসি। তাই ট্রামের মঙ্গল কামনা করে, দীর্ঘায়ু কামনা করেই আমরা ফোঁটা দিলাম আজ”।
এই ফোঁটা দেওয়ার বিষয়ে আরও একজন বললেন, “আমাদের শরীরে যেমন প্রাণবায়ু আছে, তেমনই কলকাতার শরীরে প্রাণবায়ু, কলকাতার ঐতিহ্য এই ট্রাম। তাই এই ট্রাম ছাড়া তো কলকাতার কথা ভাবাই যায় না। তাই ভাইফোঁটার দিন ছোট ভাই ট্রামের দীর্ঘায়ু কামনা করতে আমরা একত্রিত হয়েছি”।
আরও পড়ুনঃ ডাক্তারি ডিগ্রি? সেটা আবার কী! নেই চিকিৎসক, নিরাপত্তারক্ষীই চিকিৎসকের ভূমিকায়, রোগীকে দিলেন ইঞ্জেকশনও, ভয়ঙ্কর ছবি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
এই ভাইফোঁটার দিনই আবার ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ফোঁটা দিলেন সুন্দরবনের মহিলারা। দানা হোক বা অন্যান্য রেমাল নানান বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের থেকে সুন্দরবনবাসীদের রক্ষা করে এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য। সেই কারণে কৃতজ্ঞতা থেকেই ম্যানগ্রোভকে ভাই মেনে ফোঁটা দিলেন বোনেরা। সেই একই ছবি দেখা গেল কলকাতাতেও। এবার ট্রামের কপালেও পড়ল ফোঁটা।





