বিগত কয়েকদিন ধরেই সন্দেশখালিতে আগুন জ্বলছে। গ্রামের মহিলারা বাঁশ, লাঠি হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। রাতবিরেতে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া, শ্লী’ল’তা’হা’নি, স’ম্মা’ন’হা’নির অভিযোগ তুলেছেন তারা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের এলাকার সাংসদ, যিনি নাকি একজন মহিলা, তাঁকেই পাশে পান নি। কোথায় গেলেন বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহান? প্রশ্ন সন্দেশখালির।
তৃণমূল তারকা-সাংসদকে নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন সন্দেশখালির বাসিন্দারা। গ্রামের এক মহিলার কথায়, “নুসরত জাহানকে তো ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা তো অন্য পার্টি করি না। আমরা টিএমসি পার্টিই করি। ভোট দিই টিএমসি-কে। না দিলে তো হবে না। আমরা না দিলেও ভোট পড়ে যায়”।
অন্য এক মহিলা বলেন, “আমাদের গ্রামের এক দাদার স্ত্রী ফোন করেছিলেন নুসরত জাহানকে। বারবার ফোন করেছেন। কিন্তু ফোনে যাগোযাগই করা যায়নি। অথচ যখনই মিটিং মিছিল হয়, এসে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়।বলে যান, সমস্যায় পড়লে আমাকে জানাবেন, কিন্তু এখন আর তিনি কোথায়? হাত তুলে বলে যায়, কিন্তু এখন হাত নীচে নেমে গিয়েছে”।
নুসরত শেষ কবে তাদের এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন, তা যেন মনেও করতে পারছেন না সন্দেশখালির মানুষ। এক মহিলা বলেন, “সাংসদকে আমাদের সমস্যার কথা বলতে গেলে শোনেন না তো! অনেক দিন আগে এসেছেন। দু-তিন বছরেরও বেশি আগে এসেছিলেন”।
নুসরতের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করে গ্রামের এক মহিলা বলেন, “জাহান তো আর মানুষের সেবা করবেন হলে সাংসদ হননি, ওঁ হয়েছেন, নিজের ওয়েটটা বাড়াবেন বলে”।
যেদিন সন্দেশখালিতে মহিলারা নিজেদের সম্মানহানির প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন ‘রোজ ডে’র ভিডিও বানাতে ব্যস্ত ছিলেন ওই এলাকার সাংসদ। প্রেমের সপ্তাহে নুসরতের জানান দিনের ছবি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল দেখলেই মিলবে। সন্দেশখালির ঘটনার পর এলাকাবাসীদের সঙ্গে দেখা তো দূর, এই নিয়ে চারদিন ধরে কোনও মন্তব্যও করেন নি তিনি।
অবশেষে গতকাল, সোমবার নানান বিতর্কের মুখে পড়ে মুখ খুলেছিলেন নুসরত। বলেছিলেন, “আমি আগুনে ঘি ঢালব না। আমি সংসদের কাজে দিল্লিতে ছিলাম। কিছুদিন আগে ফিরেছি। দিল্লি থেকে ফিরে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তবে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি। প্রশাসনকে সব রকমভাবে সাহায্য করছি”।






