বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করে যেন অদ্ভুত এক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, পরিস্থিতি ততটাই টালমাটাল হয়ে উঠছে। একদিকে রাস্তায় জনতার অসন্তোষ, অন্যদিকে নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা—এই দুইয়ের চাপে জনজীবন দিনকে দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে, “এই কি তবে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ?”
তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে। বাংলাদেশে এক বৃহৎ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে নিষিদ্ধ হয়ে গেল—এমন নজির বিগত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। দেশের নাগরিকদের একাংশ বলছেন, এভাবে কি কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়? প্রশ্ন উঠছে সরকারের ভূমিকা নিয়েও।
শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতি জারি করে জানায়, আওয়ামি লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে তদন্ত চলাকালীন, দলটি দেশের রাজনীতিতে কোনওভাবেই অংশ নিতে পারবে না। শুধু তাই নয়, আওয়ামি লীগের পক্ষে সামাজিক মাধ্যমেও কোনও ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য বা কর্মসূচি প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ, দলটির প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি কার্যত স্থগিত।
এই ঘোষণার পরই আওয়ামি লীগের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। দলের মুখপাত্র জানান, “এই ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা মানি না। আওয়ামি লীগ রাজনীতি ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তাঁরা আরও জানান, দলটি সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করছে, যাতে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি সমর্থন তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ Cancer : ম্যামোগ্রাফি নয়, কোলনোস্কোপিও নয়! এবার এক ব্লাড টেস্টেই ধরা পড়বে ৩০ ধরনের ক্যানসার!
এখন সবার চোখ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের দিকে। কারণ তাদের সিদ্ধান্তেই ঠিক হবে, আওয়ামি লীগের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে কিনা। যদি বাতিল হয়, তাহলে দলটি আর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে একটি বড় দলের অস্তিত্বকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ঠেলে দিলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও তীব্র হবে। এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র।





