ভারতের অন্যতম বেসরকারি ব্যাঙ্ক আইসিআইসিআই-এর এক সময়কার মুখ ছিলেন চন্দা কোচর। দক্ষ নেতৃত্ব, কর্পোরেট দুনিয়ায় দাপট—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক শক্তিশালী নাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ভাবমূর্তি। সম্প্রতি এক ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর নাম জড়াল এক বড়সড় আর্থিক দুর্নীতিতে। অভিযোগ, এক শিল্পগোষ্ঠীকে বিপুল ঋণ পাইয়ে দিয়ে তার বদলে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের ঘুষ!
ট্রাইব্যুনাল জানায়, ৩০০ কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ৬৪ কোটি টাকা ‘ঘুষ’ দেওয়া হয়েছিল কোচরের স্বামী দীপক কোচরের সংস্থায়। ২০০৯ সালে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক থেকে ভিডিয়োকন গোষ্ঠীকে এই ঋণ মঞ্জুর করা হয়। ঠিক তার পরের দিনই ভিডিয়োকনের অধীনস্থ এসইপিএল (SEPL) সংস্থা থেকে দীপকের সংস্থা ‘এনইউ পাওয়ার’-এ চলে আসে ৬৪ কোটি টাকা। আদালতের মতে, ঘটনাটি নিছক ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক লেনদেনের ছক।
২০২০ সালের শুরুতেই ইডি চন্দা কোচরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। পরে এই মামলায় তাঁর স্বামী দীপক ও ভিডিয়োকন গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান বেণুগোপাল ধূতের নামও উঠে আসে। অভিযোগ, কোচরের প্রভাব খাটিয়ে ভিডিয়োকনকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং বদলে তাঁর স্বামীর সংস্থায় বিনিয়োগ হয় ঘুষ হিসেবে। ইডি এই মামলায় দম্পতির একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। সেই পদক্ষেপকে বৈধ বলেই উল্লেখ করেছে আদালত।
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ঋণ অনুমোদন কমিটির সদস্য ছিলেন চন্দা কোচর। সেই সময় তিনি স্বামীর ভিডিয়োকন গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গোপন রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। আদালতের মতে, এটি একটি স্বচ্ছ লেনদেন নয় বরং সুস্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত। বিচারপতির ভাষায়, ‘‘ঋণ মঞ্জুর ও অর্থ হস্তান্তরের সময়ের ব্যবধান এবং দীপকের সংস্থায় অর্থপ্রবাহ স্পষ্ট প্রমাণ দেয় যে এখানে বিনিময়মূল্য হিসেবে টাকা দেওয়া হয়েছে।’’
আরও পড়ুনঃ শ্রাবণে শিবের কৃপা, বদলে যাবে ৪ রাশির ভাগ্য! কাদের খুলছে কপাল?
এই রায় শুধু এক ব্যক্তির নয়, গোটা কর্পোরেট দুনিয়ার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে ব্যাঙ্কের উচ্চপদে থাকা কেউ নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করেন, সেখানে সাধারণ আমজনতার আস্থা ভেঙে পড়ে। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও এতে কালিমালিপ্ত হয়েছে। এখন দেখার, এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং চূড়ান্ত সাজা কবে ঘোষণা করে আদালত।





