জন্ম থেকেই নেই দু’হাত, অগত্যা পা-ই সম্বল! পা দিয়ে গাড়ি চালিয়েই আজ এশিয়ার প্রথম হাতবিহীন ড্রাইভার তরুণী

Jilumal Marriet Thomas: ইন্ডিয়ার এই মেয়ের দুটো হাত নেই, পা দিয়েই গাড়ি চালিয়ে সে পেয়ে গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। এমন আশ্চর্য ঘটনা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথমবার। শুধু পা দিয়ে গাড়ি চালানো যায় নাকি, জানলে অবাক হবেন। আজ অবধি একবারও অ্যাক্সিডেন্ট করে নি সে। নিজের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে গিয়ে এই মেয়েটা জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। এই মেয়েটির নাম জিলুমল ম্যারিয়েট থমাস (Jilumal Marriet Thomas)। জিলুমলের বয়স বত্রিশ। একটানা ন’বছর ধরে আদালতের সঙ্গে লড়াই করার পর জিলুমল হাতে পেয়েছে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স।

জিলুমলের (Jilumal Marriet Thomas) জন্ম কেরালার থোরুপুজা অঞ্চলের এক কৃষক পরিবারে। থালিডোমাইড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কারণে জন্মের সময় দুটো হাত ছাড়া জন্মেছিলেন জিলুমল। তাই ছোট্ট থেকেই জিলুমলকে (Jilumal Marriet Thomas) বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছে। নানা প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন জিলুমলের চেহারা নিয়ে বিদ্রুপ করেছেন। তবে জিলুমলের বাবা-মা এতে দমে যাননি। জিলুমলের বাবা-মা ছোট থেকেই জিলুমলকে এমন ভাবে বড় করে তুলেছেন যাতে হাত ছাড়াও জিলুমল সেই সব কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে। জিলুমলের বয়সী আর পাঁচটা সাধারন ছেলেমেয়েদের যেসব কাজ করতে হাতের দরকার হয়, সেগুলো অনায়াসেই জিলুমল (Jilumal Marriet Thomas) করতে পারত পা দিয়ে। জিলুমল নিজে নিজেই চুল আঁচড়ানো, খাবার খাওয়া, চায়ের কাপ ধরা শিখে গেছিলেন। জিলুমল করতে পারতেন ছবি আঁকার মত কঠিন কাজও।

ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবাক করে দিয়ে বাকি সব শিক্ষার্থীদের থেকে দ্রুতগতিতে কম্পিউটার চালাতে শিখে গেলেন জিলুমল ম্যারিয়েট (Jilumal Marriet Thomas)। ২০১৪ সালে কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে জিলুমলকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার কি এমন কোন স্বপ্ন আছে যা এখনো পর্যন্ত পূরণ হয়নি। সেদিন জিলুমল উত্তর দিয়েছিল, সে নিজের ক্ষমতায় গাড়ি চালানো শিখতে চায়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন এডভোকেট জিলুমলের (Jilumal Marriet Thomas) ইচ্ছার কথা শুনে ওর পাশে দাঁড়াতে চায়। তারপরেই জিলুমলের জীবনে এক নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। দুহাত বিহীন এক বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ের পক্ষে ড্রাইভিং লাইসেন্স জোগাড় করা অসম্ভবের থেকেও কম কিছু নয়। জিলুমল যখন প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করেন তখন তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখনই জেদ চেপে যায় জিলুমলের (Jilumal Marriet Thomas)। নিজের জমানো টাকা থেকে একটা গাড়ি কিনে ফেলেন তিনি। সেই গাড়ির বিভিন্ন অংশ এমন ভাবে বানানো হয় যাতে কোন মানুষের পক্ষে হাত ছাড়াও সেই গাড়িটি চালানো সম্ভব।

এত সবকিছুর পরেও মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর জিলুমলকে (Jilumal Marriet Thomas) লাইসেন্স দিতে রাজি হলেন না। এমনকি ওই ইন্সপেক্টর জিলুমলকে বিদ্রুপ করেন। জিলুমলকে বিদ্রুপ করে ওই ইন্সপেক্টর বলেছিলেন, সারা পৃথিবী ঘুরে এমন একটা মানুষকে খুঁজে আনতে যার দুটো হাত বা পা না থাকা সত্ত্বেও যাকে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অপমান শুনেও পিছু হটলেন না কিছুতেই। নিজের গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের আবেদন নিয়ে তিনি সোজা হাজির হলেন হাইকোর্টে। ২০২০ সালে জিলুমলের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়। টানা নবছর লড়াই করার পর অবশেষে ২০২৩ সালে এশিয়া মহাদেশের প্রথম হাতবিহীন ড্রাইভার হিসেবে লাইসেন্স পান জিলুমল ম্যারিয়েট থমাস (Jilumal Marriet Thomas)।

বর্তমানে কোচি শহরে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন জিলুমল (Jilumal Marriet Thomas)। দুটো হাত ছাড়াই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ করেন তিনি। জিলুমল (Jilumal Marriet Thomas) আজ মাউথ অ্যান্ড ফুট পেন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্যও বটে। সংবাদ মাধ্যমের কাছে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জিলুমল (Jilumal Marriet Thomas) জানান, “মানুষের কাছে সব সময় দুটি উপায় থাকে- চুপচাপ বসে ভাগ্য বদলের অপেক্ষা করা, নয়তো নিজে এগিয়ে গিয়ে ভাগ্য নিজেই বদলে ফেলা। আমি দ্বিতীয় উপায়টাই বেছে নিয়েছিলাম”। ‌আজ জিলুমল ম্যারিয়েট থমাস (Jilumal Marriet Thomas) হাজার হাজার বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের কাছে অনুপ্রেরণা।

RELATED Articles