মোমো বানিয়ে এলাকা কাঁপাচ্ছে বাঁকুড়ার মেয়ে। দুর্গাপুরে তার মোমোর রমরমা। আন্টি’স স্পেশাল কিচেন-এর কর্ণধার বাঁকুড়ার মেয়ে কণিকা চট্টোপাধ্যায় (Kanika Chatterjee)। কণিকা এখন দুর্গাপুরের প্রতিষ্ঠিত মোমো ব্যাবসায়ী। এখন তার রমরমা হলেও ব্যবসার শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। অনেক ঝড়ঝাপটা সামনে নিজের ব্যবসাকে দাঁড় করাতে হয়েছে কণিকাকে (Kanika Chatterjee)।
নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করার সিক্রেট সবার সঙ্গে শেয়ার করলেন কণিকা চট্টোপাধ্যায় (Kanika Chatterjee)। নিজে ব্যবসা করাই জীবনের লক্ষ্য নয়। আরও পাঁচজনকে কাজ শিখিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা তার লক্ষ্য। বাঁকুড়ার মহিলাদের স্বনির্ভরতার পথ দেখাতে উদ্যোগী ‘মোমো আন্টি’। ‘মোমো আন্টি’ নামটার সাথে অনেকেই পরিচিত। বাঁকুড়ার মেয়ের মোমো পৌঁছে গিয়েছে আজ কলকাতাতেও। খোদ রচনা ব্যানার্জি প্রশংসা করেছেন কনিকা চট্টোপাধ্যায়ের মোমোর। বাঁকুড়ার ছাতনার দুবরাজপুরের বাসিন্দা কণিকা চট্টোপাধ্যায় (Kanika Chatterjee)।
বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ের কাছে দেখা গেল মোমো আন্টির দোকানে রকমারি মোমোর। স্থায়ী কোনো দোকান নয়, অস্থায়ী স্টলেই গন্ধরাজ থেকে শুরু করে চকলেট মোমো, স্টিম, ফ্রায়েড, প্যান ফ্রায়েড মোমো তো আছেই। তার মোমোর সাথে মাতোয়ারা স্থানীয় থেকে পর্যটকরা। মোমো আন্টির দোকানে রয়েছে ভেজ সেকশনে, থাকে কর্ন মোমো ও পনির মোমো। কণিকা চট্টোপাধ্যায় (Kanika Chatterjee) এলাকায় মোমো আন্টি নামেই পরিচিত।
কণিকা চট্টোপাধ্যায় (Kanika Chatterjee) বলেন, “লকডাউনের সময় স্বামীর এবং সংসারের পাশে দাঁড়াতেই এক্সপেরিমেন্টাল ভাবে শুরু হয়েছিল মোমোর ব্যবসা। মোমো রেখে বিক্রি করার মতো টেবিল পর্যন্ত ছিল না। শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বন্ধু বান্ধবদের সাহায্যে একটু একটু করে স্থিতিশীল হতে থাকে বাঁকুড়ার এই মেয়ের কর্মকাণ্ড।”
মোমো আন্টি নিজের যোগ্যতায়, নিজের হাতের সুস্বাদু মোমো তৈরি করে মন জয় করেছে সকলের। এমনকি তার জনপ্রিয়তা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি শোতে। সেই টিভি শোয়ের পর আরও খ্যাতি বেড়েছে কণিকার (Kanika Chatterjee)। জনপ্রিয়তা পৌঁছেছে শিখরে। অভিনেত্রীর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শো দিদি নাম্বার ওয়ানে গিয়েছিলেন মোমো আন্টি। সেখানে কণিকার মোমো টেস্ট করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু টেস্ট নয়, কণিকার (Kanika Chatterjee) হাতের তৈরি মোমোর প্রশংসাও করেন রচনা।
এলাকার বাচ্চারা কণিকা চট্টোপাধ্যায়কে (Kanika Chatterjee) ‘মোমো অ্যান্টি’ বলেই ডাকে সেই জন্যেই দোকানের নাম এখন ‘মোমো আন্টি’। কণিকা বলেন, “আমি পেরেছি তাই অন্যান্য মেয়েরাও পারবে”।
বর্তমানে কণিকার কাছে মোমো নিয়ে ব্যবসা করছেন একাধিক ব্যবসায়ী। যারা স্বনির্ভর হতে চান, তাদের পাশে সবরকম সাহায্য করতে রাজি মোমো আন্টি। কণিকা চট্টোপাধ্যায়ের (Kanika Chatterjee) মতে, “প্রান্তিক বাঁকুড়া হোক কিংবা বড় শহর। ছোট ব্যবসা হোক বা বড়। সৎ ভাবে পরিশ্রম করে গেলেই সফলতা আসতে বাধ্য। শুধুমাত্র শুরু করার অপেক্ষা।”





