জীব প্রেমের নিদর্শন রতন টাটার, তাজ হোটেল থেকে কখনও তাড়ানো হয় না কোনও পথকুকুরদের

রতন টাটার ফাইভ স্টার হোটেলের গেট থেকে সরানো যাবে না পথ কুকুরদের। রতন টাটার (Ratan Tata) কড়া নির্দেশ রয়েছে, মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে আসা সমস্ত পথকুকুরদের সঙ্গে হোটেলের কর্মীদের ভালো ব্যবহার বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের আইকনিক তাজ হোটেলে একটি পথ কুকুরকে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। রুবি খান নামক এক এইচআর এই দৃশ্যটি দেখে অবাক হন। এত বড় একটা ফাইভ স্টার হোটেল যেখানে দিনরাত বড় বড় আমলা, সেলিব্রেটিরা প্রবেশ করেন সেখানে কিভাবে একটা পথ কুকুরকে ঢোকার অনুমতি দিল হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলে ঢুকে এমনই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান রুবি খান।

যে হোটেলে একজন সাধারন মানুষ পা দেওয়ার আগে পাঁচবার ভাবনা চিন্তা করে। সেই হোটেলের সিকিউরিটি ব্যবস্থা কী এতটাই খারাপ। কিন্তু রুবি খানের বুঝতে অসুবিধা হয়নি তিনি রতন টাটার Ratan Tata) সাম্রাজ্যে পা দিয়েছেন। যে মানুষটা নিজের পোষ্য কুকুরের অসুস্থতার জন্য, ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লস-এর থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড নিতে যাননি, সেই মানুষটার কাছে এটা সামান্য।

মিস্টার রতন টাটা Ratan Tata) এই মুহূর্তে আমাদের ভারতবর্ষের সম্পদ। ৮৬ বছর বয়সী এই মানুষটা সম্প্রতি ১৬৫ কোটি টাকা খরচা করে মুম্বাইয়ের বুকে তৈরি করেছেন পশুদের জন্য বৃহৎ বড় একটি হাসপাতাল। যে হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল, খরগোশের মতো পোষ্যদের যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করা হবে। তাই মিস্টার টাটা (Ratan Tata) যে কত বড় পশুপ্রেমী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় রুবি খান নামক একজন এইচআর-এর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটিতে রুবি খান লিখেছেন, মিস্টার রতন টাটার (Ratan Tata) ফাইভ স্টার তাজ হোটেলের গেটে রোজ একটি পথপুকুরকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেখে, অবাক হয়েছেন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষ রুবি খানকে জানান, এই কুকুরটিকে হোটেল থেকে তাড়ানো বারণ। কুকুরটি তার জন্ম থেকে হোটেলেই রয়েছে। স্যার রতন টাটা নির্দেশ দিয়েছেন কেউ যেন এই কুকুরটিকে না তাড়ায়। শুধুমাত্র এই কুকুরটি নয় হোটেলে আসা সমস্ত পথকুকুরদের ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম। এই হোটেলের কেউ তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না।

এই ঘটনাটি রুবি খান নামক ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখে জানানোর পরে, সারাদেশ কুর্নিশ জানিয়েছে রতন টাটাকে (Ratan Tata)। রতন টাটা সবসময় পথপুকুরদের কথা ভাবেন। এর আগেও মুম্বাইয়ের রাস্তায় পথ কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বর্ষায় গাড়িচালকদের চার চাকা স্টার্ট করার আগে গাড়ির নিচে দেখে নেওয়ার বার্তা- প্রত্যেকটা সময় এই মানুষটার মানবিক মুখ সামনে আসে। আরও একবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নজর কাড়লেন রতন টাটা। কিভাবে রাস্তার অবলা জীবদের ভালবাসতে হয় তা প্রতিনিয়ত আমাদের দেখিয়ে চলেছে এই মানুষটি।

RELATED Articles