সবুজায়নও (Tree plantation) যে কারোর নেশা হতে পারে তা, না দেখলে বোঝার উপায় নেই। পেশায় বিদ্যুৎ দপ্তরের ঠিকা কর্মী। বছর চল্লিশের শোভন রায়ের গাছ প্রেম দেখে অবাক হবেন যে কেউ। শোভনের গাছের প্রতি নেশা থেকেই সবুজে ভরে উঠেছে গোটা গ্রাম। মন্তেশ্বরের শুশুনিয়ার বাঁয়ুই গ্রামের বাসিন্দা শোভন। তবে একা এত গাছের পরিচর্যা করা কষ্টসাধ্য, তিনি পাশে পেয়েছেন অনেককেই।
ছোট থেকেই গাছের নেশা শোভনের। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বর্ধমানের ডিভিসি মোড় কানাইনাটশালে অফিস শোভনের। অফিস যাওয়ার আগে সকালে নিয়ম করে এলাকার গাছের পরিচর্যা (Tree plantation) করেন তিনি। শোভনের কথায়, ‘বিদ্যুৎ দপ্তরের যে বিভাগে কাজ করি তার সুবাদে প্রকৃতির ক্ষতিটাও প্রত্যক্ষ করতে পারি। ঝড়ে বা দুর্যোগে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তারের ক্ষতি হলে আমাকে যেতে হয়।’
শোভন বলছেন যেভাবে গরম বাড়ছে তার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলেও সবুজায়নে (Tree plantation) মন দেওয়া। সেই কারণেই সময় নষ্ট করতে চাননি তিনি। শোভন বলছেন, ‘শুধু গাছ বসালেই তো হলো না, গ্রামে গোরু, ছাগলের উপদ্রব রয়েছে। তাই গাছরক্ষা করতে বেড়ার প্রয়োজন। কেউ বাঁশের বেড়া তৈরি করতে সাহায্য করেছেন, কেউ আর্থিক ভাবেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ গ্রামের মানুষেরা খেলার মাঠের পাশে অল্প বোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শোভন জানাচ্ছেন, ‘সেখানে পলাশ, বকুল, মেহগনি, কদম, সোনাঝুরির মতো গাছ বসিয়েছি।’
সবুজায়ন প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য করেন শোভনের বন্ধু, গ্রামের বাসিন্দারা, সেচ দপ্তরের আধিকারিক, জেলা পরিষদ কর্মীর মতো মানুষেরা। গাছের পরিচর্যা করতে রোজ শোভনের সঙ্গে থাকেন তার বন্ধু বিদ্যুৎ নন্দী। তিনি বলছেন, ‘শোভনের সবুজায়নের (Tree plantation) নেশা চেপে বসেছে আমাদের উপরেও। ওকে যতটা পারি সাহায্য করি। একমাত্র সবুজায়নই যে আমাদের বাঁচার পথ সেটা সবাইকে বোঝাতে পেরেছে শোভন। সামান্য যা বেতন পায় তার অনেকটাই খরচ হয়ে যায় গাছ-গাছালির রক্ষণাবেক্ষণে।’
স্বামীর এই উদ্যোগে খুশির শোভনের স্ত্রী মুক্তা কর্মকার রায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘তাপপ্রবাহের সময়ে গাছেদের জন্য ভ্যানে করে জার ভর্তি জল নিয়ে গিয়েছে। ওই গরমেও জল দেওয়া বন্ধ করেনি।’ গাছ মাস্টার বলে পরিচিত শিক্ষক অরূপ চৌধুরি বলেন, ‘শোভন যেভাবে এলাকায় সবুজায়নে (Tree plantation) উদ্যোগী হয়েছে তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ঠ নয়। আমরা গাছ গ্রুপ থেকে যতটা পারি ওকে চারা দিয়ে সাহায্য করি। বাকিটা ও নিজেই করে নেয়।’ অরূপ চৌধুরী রুদ্র পলাশের বীজ এনে দিতে বলেছিলেন শোভনকে। এ প্রসঙ্গে অরূপ চৌধুরী জানাচ্ছেন, ‘কাজের সূত্রে শোভন বর্ধমানের বেচারহাটে একটি হাউজি়ং কমপ্লেক্সে গিয়ে সেই বীজ কুড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। শুধু নিজের এলাকায় নয়, শোভনের উদ্যোগে সবুজে ভরে উঠেছে ভিন এলাকাও।’






