Struggle story of a 10 years old boy: বাবা মারা গেছে, মা ছেড়ে চলে গেছে তাই ১০ বছরের ছেলেটা (Struggle story of a 10 years old boy) ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এগ রোল বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন। শুধু নিজের নয়, নিজের ১৪ বছর বয়সী দিদিকেও নিজের দায়িত্বে পড়াশুনা শেখাচ্ছেন। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মানুষকে রোল খাইয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতে হচ্ছে দশ বছরের বাচ্চা ছেলেকে। আপনি জীবন এর সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত অনুভব করলে ১০ বছরের এই ছেলেটার গল্প আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে (Struggle story of a 10 years old boy) ।
এই বাচ্চা ছেলেটির মাত্র ১০ বছর বয়সে মাথার ওপর থেকে আশ্রয় হারিয়েছে। ঘটনাটি ভারতবর্ষের রাজধানী শহর দিল্লির। ১০ বছরের এই ছেলেটির নাম জাসপ্রীত (Struggle story of a 10 years old boy) । জাসপ্রীত একজন পাঞ্জাবি পরিবারের ছেলে। বেশ কিছু বছর আগে জাসপ্রীতের বাবা পাঞ্জাব ছেড়ে দিল্লি চলে আসেন উপার্জনের আশায়। দিল্লিতে এসে জাসপ্রীতের বাবা এগরোলের দোকান দেন। দিল্লির তিলক নগর এলাকায় এগ রোল চিকেন রোল বিক্রি করে সবই ঠিকঠাক চলছিল। আচমকা কয়েক মাস আগে জাসপ্রীতের বাবার মাথায় টিউবারকিউলোসিস রোগ বাসা বাঁধে। চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা খরচ হতে থাকে। অনেক ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করিয়েও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যায়নি জাসপ্রীতের বাবাকে। রোলের দোকান বন্ধ হয়ে যায়, বাবা মারা যাবার পর, পথে বসার মত অবস্থা হয়ে দাঁড়ায় তাদের পরিবারের।
এমন কঠিন সময় নিজের দুই ছেলেমেয়েকে দিল্লিতে ফেলে রেখে পাঞ্জাবে নিজের বাড়িতে চলে যান মা। দিল্লির মতো শহরে অনাথ হয়ে পড়েন জাসপ্রীত ও তার দিদি। ঘরে ও খাবার নেই, বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাজারে অনেক টাকার ধার রয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একা লড়তে চলে এল ১০ বছরের ছোট্ট ছেলে জাসপ্রীত (Struggle story of a 10 years old boy) । জাসপ্রীত সিদ্ধান্ত নেয় বাবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার রোলের দোকানটা সে এবার নিজে চালাবে। আশেপাশের দোকানদারদের থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে শুরু হয় জাসপ্রীতের লড়াই। তাদের দোকানে কোন কর্মচারী নেই, সেই আর তার দিদি মিলে বাজার করে। দিদি ময়দাটা মেখে দেয়, বাকি রোল ভাজা থেকে শুরু করে গরম গরম রোল পরিবেশন এর দায়িত্ব রয়েছে জাসপ্রীতের কাঁধেই। প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও এখন বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে ছোট্ট জাসপ্রীত (Struggle story of a 10 years old boy) ।
সম্প্রতি, একজন ফুড ব্লগার জাসপ্রীতের দোকান কভার করেছেন। সেখানে জাসপ্রীতের মুখে অমলিন হাসি। সমস্ত ঝড়ঝাপটা সামলে সেই হাসি বুঝিয়ে দেয় কতটা কষ্ট করতে হয় দুটো ভাতের জন্য (Struggle story of a 10 years old boy) । তবে সবচেয়ে গর্বের বিষয়ে এত ঝড়ঝাপটার পরেও কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন জাসপ্রীত। প্রতিদিন সকালে বাজার করার পর দিদিকে নিয়ে পৌঁছে যায় স্কুলে। স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে ভাই বোন মিলে লেগে পড়ে রোল তৈরির কাজে। সারা বিকেল সন্ধ্যে রোলের দোকান সামলে, আবার রাত্রিবেলা পড়তে বসে জাসপ্রীত। জাসপ্রীত বড় হতে চায়, তার দিদি যেন বড় জায়গায় পৌঁছায় সেটাই আশা তার। জাসপ্রীত ক্লাস ফাইভে পড়ে, বাকি পাঁচটা বাচ্চার মতো তার জীবন নয়, নিজে খেটে রোজগার করে পড়াশোনাটা চালিয়ে যাচ্ছে (Struggle story of a 10 years old boy) ।





