লোভে পাপ, পাপে জেলখানা! কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক লুঠ, ফ্রিতে জুস খেতে গিয়েই পুলিশের জালে ধরা পরল ডাকাত

সাড়ে ৮ কোটি টাকা লুঠ করা ব্যাঙ্ক ডাকাত (bank robber), দশ টাকা দামের আমের জুস ফ্রিতে খেতে গিয়ে ধরা পরল পুলিশের জালে। হ্যাঁ, শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এটাই হয়েছে। ফ্রিতে আমের জুস বিক্রি করা ছিল পুলিশের একটি ফাঁদ। ফ্রিতে পেলে আমরা কিছুই ছেড়ে দিতে পারি, এক্ষেত্রে সাড়ে আট কোটি টাকা লুট করে পালানো ডাকাতও ফ্রিতে পাওয়া ফ্রুটির লোভ ছাড়তে পারেনি। ব্যাস ধরা পরল ডাকাতের দল। ‌ লোভে পাপ, পাপে জেলখানা। 

২০২৩ সালের ১০ জুন পাঞ্জাবের লুধিয়ানা অঞ্চলে একটা বড় ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খোয়া যায় ওই ব্যাঙ্ক থেকে। ৮ কোটি টাকাটা তো একটা ছোটখাটো অ্যামাউন্ট নয়। ফলে রাতের ঘুম উড়ে যায় পাঞ্জাব পুলিশের। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে দুটো নাম, মনদীপ কৌর ও যশবিন্দর সিং, সম্পর্কে এরা স্বামী-স্ত্রী। ‌তবে মনদীপের আরো একটি পরিচয় রয়েছে, নাম ডাকু হাসিনা। নিজের সৌন্দর্যের জন্য পাঞ্জাবের অপরাধ জগতে ডাকু নামে বিখ্যাত মনদীপ কৌর। তিনি নাকি ডাকাতদের রানী। নাম সামনে আসতে যশবিন্দর ও তার স্ত্রীকে খুঁজতে শুরু করে পাঞ্জাব পুলিশ।

জায়গায় জায়গায় ফাঁদ পাতা হলেও ডাকু হাসিনা কোন ফাঁদেই পা দেয়নি। এভাবেই বেশ কিছুদিন কেটে যায়। তারপর গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে, পাঞ্জাব ছেড়ে নেপালে পালানোর ছক কষছে ডাকু হাসিনা ও যশবিন্দর সিং। তার আগে লুধিয়ানার ওই ব্যাঙ্ক ডাকাতিকে উদযাপন করতে কয়েকটা তীর্থক্ষেত্রে ঘুরে বেড়াবেন তারা। আর তাদের প্রথম ডেস্টিনেশন হেমকুন্ড সাহিবের গুরুদ্বারা। হেমকুন্ডে ফাঁদ পাতার সময় পুলিশ লক্ষ্য করেন এখানে যারা তীর্থ করতে আসছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই প্রবল গরমের জন্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছেন। সবাই যদি কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন তাহলে ডাকু হাসিনাকে শনাক্ত করা হবে কি করে। সেই সময় পাঞ্জাব পুলিশের মাথায় আসে একটা আইডিয়া। 

গুরুদ্বারের ঠিক বাইরেই বিনা মূল্যে ফ্রুটি বিতরণ করা হবে। প্রবল গরমে লোকে এতটা পথ হাঁটার পর সুস্বাদু ও আমের পানীয় খাবেই। তা খেতে হলে মুখ ঢাকার কাপড় সরাতে হবে। পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন যার কাছে ৮ কোটি টাকা রয়েছে সে কি আর বিনামূল্যে আমের জুস খেতে দাঁড়াবেন। ‌ কিন্তু ও সিনিয়র অফিসাররা নিজেদের বুদ্ধির ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কারণ ফ্রিতে কিছু জিনিস পাওয়া গেলে কেউ তার সুযোগ নিতে ছাড়েন না। ডাকু হাসিনা ডাকাত হলে কি হবে? দিনের শেষে তিনিও তো মানুষই। 

অবশেষে তিন ঘন্টা ফ্রুটি বিতরণের পর আসে সেই সময়। ফ্রিতে ফ্রুটি খাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান ডাকু হাসিনা ও তার স্বামী যশবিন্দর। আর সেই জুস খাওয়ার জন্য যেই না ডাকু হাসিনা মুখের কাপড় সরান সঙ্গে সঙ্গে ছদ্মবেশে থাকা পাঞ্জাব পুলিশের অফিসাররা চিনি যান হাসিনাকে। ‌ তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রেফতার করা হয় না। যাইহোক প্রার্থনা করতে এসেছে হাসিনা। তাই প্রার্থনা শেষের পরেই ডাকু হাসিনা ও তার স্বামী যশবিন্দরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ ২১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। 

পকেটে ২১ লক্ষ টাকা নিয়েও দশ টাকার ফ্রুটি ফ্রিতে খাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডাকু হাসিনা। আর সেই ফ্রিতে খাওয়ার লোভেই তাকে জেলে যেতে হল। তবে পাঞ্জাব পুলিশের কৃতিত্ব এই এখানে আসল। মানুষের সাইকোলজির সাথে খেলে এত বড় কেস সলভ করে ফেললেন তারা। 

RELATED Articles