হাত নেই, পা নেই সেই ছেলে আইএএস অফিসার। ট্রেন দুর্ঘটনায় ছেলেটার দুটো পা বাদ গেছে। কাটা পড়েছে কনুই পর্যন্ত একটা হাত। অন্য এক হাতে পাঁচটা আঙুলের মধ্যে কয়েকটাই রয়েছে শুধু। প্রতিবন্ধকতা সমস্যা সব দূরে রেখে এই ছেলেই আজ দাপুটে আইএএস অফিসার। দুর্ঘটনা তার থেকে অনেক কিছুই ছিনিয়ে নিয়েছে তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর অবিচল জেদ ছিনিয়ে নিতে পারেনি কেউই। ছেলেটার নাম সুরজ তিওয়ারি। ২০১৭ সালের ২৯ শে জানুয়ারি ঘটা এক ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনা বদলে গেছিল সুরজের জীবন। সেদিন প্রাণে বেঁচে গেছিল সুরাজ। কিন্তু দুর্ভাগ্য কিছু ছাড়েনি, সুরজ হারায় তার একমাত্র দাদাকে।
উত্তরপ্রদেশের ম্যায়ানপুর জেলার ছেলে সুরজ। ছোটবেলা থেকে এই অভাব দেখে মানুষ হয়েছেন। সুরজের বাবা একজন দর্জি। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেই সংসারে সুরজের লড়াই ছোটবেলা থেকে শুরু হয়ে গেছিল। গ্রামের স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলেই পড়াশোনা শুরু হয় সুরজের। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করেছিলেন তিনি। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। আজ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাস করা সুরজ তিওয়ারি একদিন উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করেছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েনি। ২০১৪ সালে আবারও বোর্ডের পরীক্ষায় বসেন তিনি, সেবার পাস করেন তিনি। তখনও সুরজদের অভাবের সংসার, তাই কলেজে ভর্তি হননি বাবার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। দিল্লিতে একটা ছোট্ট কাজের সন্ধান পেয়ে দিল্লি পাড়ি দেন সুরজ।
একদিন কাজ থেকে ফেরার সময় আচমকা চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান সুরজ। বাদ যায় দুটো পা, একটা হাত ও অন্য আরেকটি হাতের আঙ্গুল। একটা ২৭ বছরের ছেলের নিজের হাত-পা নেই নিজে থেকে কিছু করার ক্ষমতা নেই। এই দুঃখ বরাবর গ্রাস করছিল সুরজকে। সকলে তাকে সহানুভূতির চোখে দেখতে থাকে। সে সময় সুরজ তার একমাত্র দাদাকে হারালো। হুইলচেয়ার চেপে ওষুধ কিনতে গিয়ে, জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টের সঙ্গে আলাপ হয় সুরজের। সেই ছেলেটা সুরজকে আরও একবার পড়াশোনা শুরু করার কথা বলে।
২০১৮ সালে জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য এন্ট্রান্স দেন সুরজ। এনট্রান্স পরীক্ষা পাস করলেও কলেজের ফিউজ দেওয়ার মত পয়সা ছিল না তার কাছে। তখন সুরজ বোঝে পড়তে গেলে টাকা লাগবে। হুইলচেয়ারে বসে বাচ্চাদের পড়িয়ে প্রথমে গ্রাজুয়েশন এবং পরে রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এর ওপর মাস্টার্স ডিগ্রী নেন সুরজ।
সে সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বড় অফিসার হয়ে দেশের জন্য কিছু করার। তাই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য যিনি ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা পড়াশোনা করতে শুরু করেন সুরজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রথমবার লিখিত পরীক্ষাতেই ৯১৭ র্যাঙ্ক নিয়ে ইউপিএসসি পাস করেন সুরজ। ইন্টারভিউ তে প্রথম বারে পাশ করতে পারেননি তিনি। আবারও ইন্টারভিউতে বসেন সুরজ। দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় সাফল্য এসে ধরা দেয় সুরজের কাছে। দেশের একজন আইএএস অফিসার হিসাবে ভারত সরকারের অধীনে যুক্ত হন সুরজ তিওয়ারি। ছেলের সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার। সুরাজের বাবা বলেন, “দুর্ঘটনার পর আমার ছেলে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা আজও আমি বিশ্বাস করতে পারি না।”





