মানুষের জীবন আগে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ নয়, গার্ডেনরিচ কাণ্ডের পর আরও কড়া বিচারপতি সিনহা

গার্ডেনরিচে বেআইনি বহুতল ভেঙে মৃত্যু হয়েছে একাধিকের। এই ঘটনার পর এবার আরও কড়া হল কলকাতা হাইকোর্ট। অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ জারি করা হবে না, এদিন আদালতে সাফ জানিয়ে দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তাঁর কথায়, আগে মানুষের জীবন। কোনও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান বিচারপতি।

আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ইকবালপুরের একটি বেআইনি নির্মাণ মামলার শুনানি ছিল। ওই বাড়িটির বাইরের অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পুরসভা এই মামলায় ৩০ দিন সময় চেয়েছে।তা শুনে বিচারপতি সিনহার প্রশ্ন, “একটা বাড়ির বাইরের অংশ ভাঙতে ৩০ দিন সময় লাগে? বাড়ি ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করতে কি যন্ত্রপাতি আছে পুরসভার কাছে জানতে চাই”। পুরসভায় আধুনিক যন্ত্রপাতি আদৌ রয়েছে কী না, তা জানাতে পুরকমিশনারের হলফনামা তলব করেছে এদিন আদালত। আগামী ৯ এপ্রিল এই হলফনামা দিতে হবে বলে নির্দেশ আদালতের।

এদিন আবার কয়েকজন তাদের বাড়ি ভাঙার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি সিনহার বেঞ্চে আবেদন জানান। তিনটি মামলা গ্রহণের আর্জি থাকলেও, কোনও মামলাই এদিন শুনতে চান নি বিচারপতি সিনহা। তিনি জানিয়ে দেন বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ জারি হবে না।

এদিন বিচারপতি সিনহা বলেন, “কোনও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। ওই সব নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ কোনও আদালত দিয়ে থাকলে নতুন করে তার শুনানি এখন সম্ভব নয়। পুরনো নির্দেশই বহাল থাকবে। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশের বিরুদ্ধে কোনও মামলা শুনব না। যে আদালতই নির্দেশ দিক না কেন, তা বহাল থাকবে। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে দিন। মানুষের জীবন আগে”।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার মাঝরাতে গার্ডেনরিচে ভেঙে পড়ে এক বহুতল। এরপর থেকে গোটা এলাকায় শুধু হাহাকার আর আর্তনাদ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া বাসিন্দাদের উদ্ধারকার্য শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত একাধিক। এখনও কংক্রিটের নীচে বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে রয়েছে বলে অনুমান।

এই বহুতল যে বেআইনিভাবে তৈরি হচ্ছিল, তা মেনে নিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ ফুটের গলিতে কীভাবে ৬ তলা বহুতল করা হল, কীভাবে তা তা অনুমোদন পেল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুরসভার কাছে এই বেআইনি নির্মাণ হল, কিন্তু অউরসভা টেরই পেল না, তা কীভাবে হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে ঢের।  

RELATED Articles