নিজ বাসভবনে ঢোকার আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেন, ”এখানে উপস্থিত থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ এবং আমরা ‘চাইনিজ ভাইরাসকে’ পরাস্ত করার জন্য আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।” সাথে তাঁর সংযোগ, ‘চাইনিজ ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারলাইনস সহ অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির পাশে শক্তভাবে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আমি মনে এই ভাইরাসের উপকেন্দ্র, চিনের উহান শহরেই এই ভাইরাসকে সীমাবদ্ধ রাখা যেত। এখন এই ভাইরাসের ফলে পুরো বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমি চীন থেকে আগত লোকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি।’
এই প্রথমবার, ট্রাম্পের সরাসরি একে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করলেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন অনেকেই। বলছেন, এটা বর্ণবাদী। এটা এশিয়ান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল দ্য ব্লাসিও বলেন, ‘আমাদের এশিয়ান-আমেরিকা সম্প্রদায়ের মানুষ ইতিমধ্যে ভুগছে। তাদের প্রতি আর বেশি গোঁড়ামি দেখানোর প্রয়োজন নেই।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পক্ষ থেকে চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে বেশি মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেকার কথার লড়াই শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি নিজেও করোনার পরীক্ষা করতে বাধ্য হন, সেটাই জন্যই হয়ত চটে গিয়ে করোনা এবং চীনের প্রতি এই কটাক্ষ! তবে, চীনের উহান শহরেই যে এই ভাইরাসের উৎপত্তি, সেকথা প্রমাণ হয়নি।
এদিকে, বৈশ্বিক মহামারী নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য চীন-আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে পরিসংখ্যান বলছে, চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোয় এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার বেশি। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। ১৪৫টি দেশে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ জনের বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে আক্রান্ত ১৯৬, মৃত চার।





