শাসকদলের পরতে পরতে দুর্নীতি! এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়াল তৃণমূলের উঠতি নেত্রী রাজন্যা হালদারের স্বামী প্রান্তিকের

গত প্রায় দু’বছর নিয়ে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক, চর্চার অন্ত নেই। যতদিন যাচ্ছে, ততই যেন পেঁয়াজের খোসার মতো এক এক খুলছে নানান তথ্য আর তাতে নাম উঠে আসছে শাসক দলের নানান নেতার। একদিকে যখন তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে বন্দি, সেই সময় এবার এই দুর্নীতিতে নাম জড়াল তৃণমূল ছাত্রনেতা প্রান্তিক চক্রবর্তীর।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাসক দলের দায়িত্ব রয়েছে এই প্রান্তিক চক্রবর্তীর উপর। সম্প্রতি, কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে সিআইডি-র তরফে। আর সেই রিপোর্টে রয়েছে একটি চিঠি, যা পাঠিয়েছেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক। সেই চিঠিতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম রয়েছে বলে খবর। আর সেই সঙ্গে নাম রয়েছে প্রান্তিকেরও।

কী অভিযোগ প্রান্তিকের বিরুদ্ধে?

জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে প্রান্তিককে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, কোনও রকম নিয়োগ পদ্ধতি ছাড়াই ২০১৮-১৯ সালে শিক্ষক পদে ৮৫০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। চিঠি অনুযায়ী, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের গাড়িতেই সেই নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ঘুরত। চাকরি দেওয়ার নামে যে টাকা নেওয়া হত, তা জি-পে অ্যাকাউন্টে নেওয়া হত বলে খবর।  

ওই চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে প্রান্তিকের হোয়াটসঅ্যাপ চেক করলেই নাকি নানান বিস্ফোরক তথ্য মিলবে তাতে। এও অভিযোগ করা হয়েছে যে চ্যাটে নাকি প্রান্তিক বলেছেন মন্ত্রীকে অ্যাডমিট কার্ড পাঠিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা।  

দুর্নীতির টাকাতেই ছবি?

সম্প্রতি একটি ছবি বানিয়েছেন প্রান্তিক চক্রবর্তী। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী রাজন্যা হালদার। তাহলে কী সেই নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই বানানো হয়েছে এই ছবি? এমনই প্রশ্ন উঠছে এই মুহূর্তে।

কী বক্তব্য প্রান্তিকের?

এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমে প্রান্তিক জানাচ্ছেন, “পাহাড়ের কাহিনি নিয়ে ছবি বানিয়েছি। ওখানকার হলে প্রচুর মানুষ সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন। আমার সাফল্যে ইর্ষান্বিত হয়েই বোধ হয় এমন অভিযোগ করছেন কেউ”। তাঁর কথায়, এই অভিযোগ হাস্যকর।

RELATED Articles