২২ জানুয়ারি গোটা বিশ্ব সাক্ষী থেকেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে নিজের জন্মভূমিতে পা পড়েছে রামচন্দ্রের। উদ্বোধন হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামমন্দিরের গর্ভগৃহের রামলালার। এক নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে ভারতবর্ষে।
রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরদিন থেকেই ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় রামমন্দিরের দ্বার। অয্যোধ্যায় আপাতত ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। শুধুমাত্র হিন্দুরাই নন, নানান ধর্মের ভক্তরাই অয্যোধ্যায় আসছেন রামলালার দর্শন পেতে। এবার অয্যোধ্যায় গেলেন ৩৫০ জনের একটি মুসলিম ভক্তদের দল।
জানা গিয়েছে, মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ নামের এক সংগঠনের তরফে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংগঠন আরএসএস সমর্থিত। ২৫ জানুয়ারি লখনউ থেকে অযোধ্যার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করে মুসলিম ভক্তদের ওই দল। ৬ দিন টানা হাঁটার পর গত বুধবার তারা গিয়ে পৌঁছন অয্যোধ্যায়।
রামলালার দর্শন পেতে টানা ৬ দিন ধরে ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন এই মুসলিম ভক্তদের দল। তাদের মুখে তখন ছিল জয় শ্রীরাম ধ্বনি। উত্তর ভারতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যেই তারা এতটা পথ অতিক্রম করেছেন। জানা গিয়েছে, কমবেশি ২৫ কিলোমিটার হাঁটার পর বিশ্রাম নিয়েছেন তারা।
এমন কষ্ট সাধন করেই রামলালার দর্শন করতে গেলেন ৩৫০ জন মুসলিম ভক্তরা। বৃহস্পতিবার সারাদিন অযোধ্যা ঘোরেন তারা। ঘুরেছেন সরযূ নদীর তীরেও। মুসলিম ভক্তদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। অন্যান্য ভক্তরাও তাদের দেখে আপ্লুত।
এই বিষয়ে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের মুখপাত্র শাহিদ সৈয়দ বলেন, “রামমন্দির দর্শন করতে লখনউ থেকে অযোধ্যায় পায়ে হেঁটে এসেছেন ৩৫০ জন। নতুন ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এটি। কোনও ধর্মই যে হিংসা কথা বলে না, সহাবস্থানের কথা শেখায়, তা এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে”।





