খসে পড়ছে দেওয়ালের সিমেন্ট, ছাদ ভেঙে পড়ছে জল, হাত দিলেই খুলে আসছে দরজা-জানলা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখন বাচ্চাদের জন্য মৃ’ত্যু’ফাঁ’দ

মাত্র ছ’মাস আগেই তৈরি হয়েছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কিন্তু তার যে হাল হয়েছে, তা দেখে কেউ বলবে না যে এর বয়স মাত্র ছ’মাস। জানলা-দরজা সব ভেঙে পড়ছে। দেওয়াল থেকে খসে পড়ছে সিমেন্ট। ছাদ ভেঙে পড়ছে জল। এমনই বেহাল দশা রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের।

কোথায় রয়েছে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র?

এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬১ নম্বর বুথে। মাত্র ছ’মাস আগে তৈরি হওয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এমন বেহাল দশা দেখে ভীত সকলে। শৌচাগারের অবস্থা বলার মতো নয়। জলের ব্যবস্থাও ঠিকঠাক নেই।

এমন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিজেদের বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র যেন বাচ্চাদের জন্য মরণ ফাঁদের মতো হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীরাও ক্ষোভে ফুঁসছেন। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। ভাঙা জানলা-দরজার ছবি তুলে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি।   

কী জানাচ্ছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী?

এই ঘটনায় এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী সুবর্ণা কর্মকার জানান, “খুবই খারাপ কাজ হয়েছে। এক বছরও হয়নি অথচ গ্রিল ভেঙে গিয়েছে। প্রথম থেকে কোনও জানালা-দরজা লাগে না। প্রশাসনের কাছে অনেকবার বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। হাত দিলেই সব ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা রয়েছে। ছাদ দিয়ে জল পড়ছে। ভরসা করে মা-বাবারা কীভাবে বাচ্চাদের পাঠাবে বলুন? তাই ভয়ে খাবার নেওয়ার সময় শুধু অভিভাবকরা আসছে”। 

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “স্কুলের অবস্থা খুবই খারাপ। শৌচাগার পুরো ভেঙে গিয়েছে। দরজা ভেঙে গিয়েছে। ঘরের দেওয়াল ভেঙে গিয়েছে। বালি ঝরেঝরে পড়ছে। এই অবস্থায় কী করে বাচ্চাদের পাঠাব”?

এক অভিভাবক জানাচ্ছেন, “জলের ব্যবস্থা নেই, কুকুর ঢুকে যায়। গোটা বিল্ডিংটাই ভেঙে পড়ার উপক্রম। আমরা চাইছি স্কুলটা ভালভাবে নতুন করে তৈরি হোক। তাহলেই ভরসা করে বাচ্চাদের পাঠাতে পারব”। কবে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঠিক হবে বা আদৌ কখনও হবে কী না, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন এলাকাবাসী।

RELATED Articles