বড় ধাক্কা খেল মুসলিম পক্ষ! বহাল নিম্ন আদালতের রায়ই, জ্ঞানব্যাপী মসজিদে চলবে পুজো, সাফ জানাল হাইকোর্ট

৩১ বছর পর খুলেছিল জ্ঞানব্যাপী মসজিদের ব্যাস তেহখানা অর্থাৎ বেসমেন্ট। এরপরই সেখানে হয় মঙ্গলারতি, পুজার্চনা। সেই বেসমেন্টে পুজো চলবেই, একথা সাফ জানিয়ে বারাণসী জেলা আদালতের রায়ই বহাল রাখল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এর জেরে বড় ধাক্কা খেল মুসলিম পক্ষ।

বারাণসী জেলা আদালতের নির্দেশের পরই বুধবার মাঝরাতেই খোলা হয় জ্ঞানব্যাপী মসজিদের তেহখানা। সেখানে পূজা-অর্চনা করেন হিন্দু পক্ষ। হয় মঙ্গলারতি। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই চলে পুজো। কিন্তু জেলা আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি দ্বারস্থ হয় সুপ্রিম কোর্টের।

মুসলিম পক্ষের তরফে আবেদন জানানো হয় যাতে দ্রুত মামলার জরুরি শুনানি হয়। আবেদনে বলা হয়, হিন্দু পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাতের মধ্যেই আদালতের নির্দেশকে বাস্তবায়িত করতে উঠেপড়ে লাগে যোগী প্রশাসন। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের তরফে মুসলিম পক্ষকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যেতে বলা হয়।

এরপর মুসলিম পক্ষ দ্বারস্থ হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টের। কিন্তু সেখানে ধাক্কা খায় মুসলিম পক্ষ। এলাহাবাদ হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জ্ঞানবায়পী মসজিদে পুজো বন্ধ হবে না। মসজিদ চত্বরের বাইরে ও ভিতরে সুষ্ঠু আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন আদালত প্রশ্ন তোলে, “কালেক্টরকে রিসিভার নিযুক্ত করার সময় কেন মুসলিম পক্ষ প্রতিবাদ করেনি”?  মসজিদ কমিটিকে আবেদন সংশোধন করে জেলা বিচারকের ১৭ জানুয়ারির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করতে বলা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি।  

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জ্ঞানব্যাপী মসজিদের তেহখানাতে হত পূজা অর্চনা। কিন্তু বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং সরকার পুজো বন্ধ করে দেন। তবে মসজিদের বেসমেন্টে পুজোর অনুমতি চেয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলছিল জেলা আদালতে। অবশেষে ৩১ বছর পর জ্ঞানব্যাপী মসজিদে তেহখানাতে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি দেয় বারাণসী জেলা আদালত।  

বলে রাখি, এই মসজিদ নিয়ে আরও একটি মামলায় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া সমীক্ষা চালায় জ্ঞানব্যাপী মসজিদে। সেই সমীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই মসজিদের নীচের অংশে হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব মিলেছে। হনুমান, নান্দী, বিষ্ণুর মূর্তি থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। এমনকি, মসজিদের ওজুখানাতে অসম্পূর্ণ শিবলিঙ্গের অস্তিত্বও মেলে। সেই রিপোর্ট নিয়ে জেলা আদালতে যায় হিন্দু পক্ষ। এরপরই জ্ঞানব্যাপী মসজিদের বেসমেন্টে পুজো করার অনুমতি দেয় নিম্ন আদালত। আর এবার হাইকোর্টও সেই নির্দেশই বহাল রাখল।

RELATED Articles