২ লক্ষ কোটি টাকা চুরির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, বিধানসভায় প্রতিবাদে বিজেপি, বিধানসভার সিঁড়িতে বসে বিক্ষোভ

গতকাল, সোমবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে দেখা করে কলকাতায় ফিরেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এসেই তিনি বলেছিলেন, “অ্যাকশন হবে”। এরপরই আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের ৬ জায়গায় ১০০ দিনের কাজে চুরির অভিযোগ নিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। এরই মধ্যে এবার বিধানসভায় প্রতিবাদ জানাল বিজেপি। ২ লক্ষ কোটি টাকা চুরির অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, সেসব নিয়ে আলোচনা করতে হবে বিধানসভায়, এমনটাই দাবী জানাল বিজেপি।

ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে?   

বলে রাখি, কিছুদিন আগেই স্টেট ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টে ক্যাগ ( কম্প্রট্রোলার অ্যান্ড অডিটরস জেনারেল- CAG) জানায় যে ২০০২-০৩ আর্থিক বছর থেকে ২০২০-২১ আর্থিক বছর পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা খরচের কোনও হিসাব পায়নি তারা। রাজ্যের নানান খাতে কেন্দ্র যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, এইসব খরচের যথাযথ হিসাব এই স্বশাসিত রাষ্ট্রীয় অডিট সংস্থাকে জমা করে নি রাজ্য সরকার। এই সংস্থা যে সময়ের কথা জানিয়েছে, তার মধ্যে বাম জমানার বছরও রয়েছে।

সেই ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী ছিল, বাম আমলের খরচের হিসাব নিয়ে ক্যাগ এখন কেন প্রশ্ন তুলছে। তিনি এও দাবী করেন যে তাঁর সরকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিয়েছে। তা না দিলে নানান প্রকল্পে একের পর এক কিস্তির টাকা ঢুকত না। ক্যাগের এই রিপোর্টের নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবী করেছিলেন মমতা। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কড়া ভাষায় চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে আজ, মঙ্গলবার বিজেপি আগে থেকেই স্থির করেই রেখেছিল যে এই বিষয়টি বিধানসভা অধিবেশনে তোলা হবে। এদিন অধিবেশন শুরু হতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড শুরু হয় অধিবেশনে। বিজেপি বিধায়করা দাবী করেন, এই বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব এনে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে রাজি হন নি। এরপরই স্লোগান দিতে দিতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। বিধানসভার সিঁড়িতে বসে বিক্ষোভ দেখান তারা।

কী বলছে তৃণমূল?

বিজেপির এহেন আচরণে তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, “ওঁরা মিথ্যা প্রচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এ হল বিজেপির টিপিকাল কৌশল। ক্যাগের এই রিপোর্টও পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।

RELATED Articles