‘বিয়ে করতে চাই, তাই এবার নিয়োগ চাই’, প্রেম দিবসে ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে ধর্না মঞ্চে চাকরিপ্রার্থীরা, দ্রুত নিয়োগের দাবী

আজ প্রেম দিবস। কিন্তু এদিনটাতেও নিজের ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে সেই ধর্না মঞ্চেই আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানাচ্ছেন, তাদের দীর্ঘ বছরের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু চাকরি না পাওয়ার জেরে বিয়ে করতে পারছেন না তারা। এমন হলে এবার আর সম্পর্কও টিকবে না বেশিদিন।

মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে উচ্চ প্রাথমিকের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “ছ’বছর ধরে সম্পর্ক রয়েছে আমাদের। আর নিয়োগের এই আন্দোলনও প্রায় ছ’বছর ধরেই চলছে। আমার বান্ধবী থাকে বর্ধমানে। প্রথম প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে গোলাপ দিতাম। বেড়াতে যেতাম আশপাশে কোথাও। কিন্তু ছ’বছরের অপেক্ষার পরে ওর বাড়ি থেকে আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়”।

তিনি জানান, তাঁর বান্ধবী তাঁকে বলেছেন, “গোলাপ তো অনেক পাঠালে। এ বার তোমার নিয়োগপত্রটা কবে পাঠাবে? যেটা দেখিয়ে বাবাকে বলতে পারব যে আমরা বিয়েটা শেষ পর্যন্ত করতে চলেছি”।

ওই চাকরিপ্রার্থীর কথায়, “আমার বান্ধবী একটি ছোট বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। ওর একার উপার্জনে সংসার চলবে না। তাই যে দিন নিয়োগপত্র পাব, সেই দিনই আমাদের ভ্যালেন্টাইন্স ডে”।

উচ্চ প্রাথমিকের আরও এক চাকরিপ্রার্থী জানাচ্ছেন, মেধা তালিকায় তাঁর র‍্যাঙ্ক ১৪২। কাউন্সেলিংয়ে স্কুল বাছাই হলেও নিয়োগপত্র পান নি। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি হুগলিতে। আমার বান্ধবীর বাড়ি বালুরঘাটে। আমি নিজের বাড়ির কাছে না নিয়ে বান্ধবীর বাড়ির কাছাকাছি একটা স্কুল পছন্দ করেছি। কিন্তু স্কুল তো পছন্দ হয়ে গেল, নিয়োগপত্র কবে পাব হাতে? হাই কোর্টে শুনানির সময়ে বার বার বিচারপতির বেঞ্চ বদল হওয়াতে আমাদের চূড়ান্ত রায় বেরোতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে”। তিনি জানান, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে বান্ধবীর থেকে দূরে এই মঞ্চেই থাকবেন তিনি।

এই মঞ্চেই ধর্না দিচ্ছেন দুই যুবক-যুবতী যাদের মধ্যে দীর্ঘ বছরের সম্পর্ক। তারা এদিন বললেন, “ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে এখানেই বসে থাকব। বড়জোর ২০ টাকা দিয়ে একটা গোলাপ ফুল ওকে দিতে পারি। ভাল কোথাও খাওয়ার মতো পকেটের জোর নেই। এত বছর ধরে অপেক্ষা করার পরে বান্ধবীর বাড়ির লোকেরা অধৈর্য হয়ে উঠেছেন। বান্ধবীর বাবা বার বার জানতে চান, আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে”?

মঞ্চে বসে থাকা আর এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমাদের এই মঞ্চে অনেকেই সম্পর্কে আছেন। সমস্যাটা বেশি হচ্ছে মেয়েদের ক্ষেত্রে। বয়স বাড়লে বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ আসছে। নিয়োগের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও সম্পর্কের গভীরতা আছে বলেই সেগুলো এত বছর ধরে এখনও টিকে আছে”।

আরও অন্যান্য খবর