সন্তু পান নিরীহ, সাংবাদিকের জামিন মঞ্জুর করল আদালত, আসল অপরাধীকে ধরতে পারছেন না, পুলিশকে ভর্ৎসনা বিচারপতির

সন্দেশখালি থেকে গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক সন্তু পানকে জামিনে মুক্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট। জামিনের পাশাপাশি তাঁর তদন্তেও স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। বিচারপতির কথায়, সন্তু পান নিরীহ। এই গোটা ঘটনায় রাজ্য পুলিশকে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ।

সন্দেশখালি নিয়ে রাজ্য ও রাজনীতি উত্তপ্ত। গত সোমবারও নানান সাংবাদিকরা ছিলেন সন্দেশখালিতে। এমন অবস্থায় এদিন বিকেলের দিকে আচমকাই গ্রেফতার করা হয় সন্তু পানকে। মঙ্গলবার বসিরহাট আদালতে তোলা হয় তাকী। পুলিশ ১০ দিনে হেফাজত চাইলে বিচারক তাঁকে ৩ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপর জামিনের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সন্তু।

এই জামিনের মামলা ওঠে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। আজ, বৃহস্পতিবার আদালতে সন্তুর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। এদিন সওয়াল-জবাবের পর বিচারপতি জানান, “পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। সৎ সাংবাদিকদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। যে সাংবাদিকদের প্রশ্ন পছন্দ হচ্ছে না, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে”।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের কথায়, “এফআইআর দেখে অযৌক্তিক এবং মোটিভেটেট মনে হয়েছে। এফআইআর দেখে গোপন জবানবন্দিতে কী থাকতে পারে সেটাই বোঝা যাচ্ছে”। তিনি এও জানান, সন্তুর বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটি বাদে সবকটিই জামিন যোগ্য। সওয়াল-জবাব শেষে সাংবাদিকের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি।

এরপরই সন্দেশখালি কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তাঁর প্রশ্ন, “মূল অভিযুক্তকে ধরতে পারছেন না, নিরীহ সাংবাদিকদের গ্রেফতার করছেন? পুলিশ আধিকারিকদের যা কাজ সেটা আগে করুন”। তিনি এও জানান, রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের কথা ভেবে তিনি দুঃখিত।

আরও অন্যান্য খবর