‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম/ আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম…’, বছর দুয়েক আগেও এই গান রীতিমতো ঝড় তুলেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধুমাত্র দেশ নয়, বিদেশের মানুষও মেতে উঠেছিলেন এই গানের তালে। মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব খুললেই বেজে উঠত এই ‘কাঁচা বাদাম’ গান। অবশেষে এবার আইনি লড়াইয়ে জিতে নিজের তৈরি এই গানের স্বত্ব পেলেন ভুবন বাদ্যকর।
ভুবন বাদ্যকর। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের এই বাসিন্দা রাতারাতি যেন ভাইরাল হয়ে যান সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২০২১ সালে গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই গান গেয়েই কাঁচা বাদাম বিক্রি করতেন তিনি। সেই থেকেই এই গানের সূচনা। ভুবন বাদ্যকর নিজে এই গানের স্রষ্টা হলেও এক সময় সুযোগ বুঝে ইলামবাজারের গোপাল ঘোষ ভুবন বাদ্যকরের থেকে তাঁরই গানের স্বত্ব লিখিয়ে নেয়।
এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যারাই এই গান পোস্ট করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে কপিরাইট লাগিয়ে টাকা দাবী করতে থাকে গোপাল ঘোষ। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এমনকি, ভুবন বাদ্যকর নিজেই নিজের গান করার পর তাঁকেও কপিরাইট দিতে হয়েছে। এর জেরে নিজের গানের জেরেই বিপাকে পড়ে যান তিনি।
এই ঘটনায় দুবরাজপুর থানায় গোপাল ঘোষ ও তাঁর সংস্থা গোধূলিবেলা মিউজিক-এর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেন ভুবন বাদ্যকর। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাঁকুড়ার ‘বেঙ্গল রিমিক্স মিউজিক’-এর সঙ্গে তাঁর প্রথম কপিরাইটের চুক্তি হওয়া সত্বেও তাঁকে আইপিআরএস অর্থাৎ শিল্পী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে গোপাল ঘোষ আর গানের কপিরাইটের স্বত্ব লিখিয়ে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কপিরাইট বোর্ডের কাছে কপিরাইট ফেরত চেয়ে আবেদন জানান ভুবন বাদ্যকর। বাঁকুড়ার মিউজিক সংস্থা তাঁর হয়ে লড়াই করে। কপিরাইটের নাম করে গোপাল ঘোষ যা টাকা তুলেছিল, সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অভিযোগও জানানো হয় আদালতে। আদালতে এখন বিচারাধীন রয়েছে সেই মামলা।
তবে এরই মধ্যে এবার মুম্বইয়ের কেন্দ্রীয় সরকারের কপিরাইট বোর্ড বাঁকুড়ার ওই সংস্থাকে ‘কাঁচা বাদাম’ গানের মালিকানার সার্টিফিকেট দিল। এর ফলে আইনি লড়াই জিতলেন ভুবন বাদ্যকর। তবে কপিরাইট লিখিয়ে নেওয়ার জন্য আদালত কী রায় দেয়, এখন সেটারই অপেক্ষা করছেন ভুবন বাদ্যকর।





