করোনায় গোষ্ঠী-সংক্রমণ শুরু ভারতে? মানছে না কেন্দ্র

তবে কি আশঙ্কাই সত্যি হল? কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে দেশে? কারণ দেশে নতুন করে করোনা-সংক্রমণ শনিবার ছিল ৫০টি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর হিসেবে আজ রবিবার রেকর্ড ভেঙে সংখ্যাটা হল ৮৯। আইসিএমআর বলেছে, দেশ জুড়ে করোনা-সংক্রমণ আজ ৩৪১ ছুঁয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেবে, সংখ্যাটা ২৮৩। পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ করোনা-রোগীকে ধরলে ২৮৪। এঁদের মধ্যে ২৩ জন সেরে উঠলেও এবং মৃতের সংখ্যা ছয়ে আটকে থাকলেও দুশ্চিন্তা বেড়েছে পুণের এক মহিলার করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ধরনে। এমনকি কলকাতায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির আক্রান্তের ধরনও একই প্রশ্ন তুলেছে।

পুনের বছর চল্লিশের ওই মহিলা বা তাঁর পরিবারের কেউই সাম্প্রতিক অতীতে বিদেশে যাননি। তবে ওই মহিলা গত ৩রা মার্চ নবী মুম্বইয়ের ভাসি-র একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি ট্যাক্সিতে মুম্বই যান বলেও খবর। সবই খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। আপাতত তিনি ভেন্টিলেশনে। চেন্নাইয়েও এমন একটি সংক্রমণের খবর মিলেছে। কলকাতার দমদমে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিও বিদেশে যাননি। তাহলে কি গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হল?

এই ধাঁচের সংক্রমণের নজির দেখিয়েই কোনও কোনও চিকিৎসকের দাবি, ভারতে করোনার প্রকোপ বিপজ্জনক ‘তৃতীয় পর্যায়ে’ পৌঁছে গিয়েছে। এর অর্থ গোষ্ঠী-সংক্রমণ। গত দু’দিনে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে যাওয়ার উদাহরণও দিচ্ছেন এই চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছেন, ভারত হয় তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, বা তার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেন, ‘‘স্টেজ থ্রি-তে কে কোন উৎস থেকে সংক্রমিত হলেন, তা জানা যায় না। কিন্তু ভারতে এ যাবৎ যত জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই সংক্রমণের উৎস জানা গিয়েছে।”

করোনা সংক্রমণের প্রশ্নে ভারত যে ‘দ্বিতীয় পর্যায়ে’ রয়েছে, সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ব্রেক দ্য চেন’ নীতি মেনে করোনা সংক্রমণকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আটকে রাখতে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ছে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। একের পর এক রাজ্য লকডাউন হচ্ছে। গোষ্ঠী-সংক্রমণ হলে বিদেশ থেকে আসা কোনও সংক্রমিত ব্যক্তি বা রোগীর সংস্পর্শে না-এসেই এক জন সুস্থ মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

তৃতীয় পর্যায় আটকাতে তাই মূলত নতুন সংক্রমণ রোখার উপরে জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। পরস্পরের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও পরিচ্ছন্ন থাকাই একমাত্র রাস্তা। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, অজান্তে বা জেনেশুনে করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন, এমন প্রায় সাত হাজার লোক নজরদারিতে রয়েছেন। তবে সংখ্যাটি ক্রমশ বাড়ছে। কারণ শিক্ষিত ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়েও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অন্যদের সংক্রমিত করছেন। এতে লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। গত ১৩ মার্চ দিল্লি-রামগুন্ডম সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসের ৮ যাত্রীর শরীরে কোভিড-১৯ পাওয়া গিয়েছে। একমাত্র মানুষ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকলেই অনেকাংশে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। কাল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজস্থানে জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে দোকানপাট থেকে পরিবহণ — সবই বন্ধ থাকবে। কাল ভোর থেকে ২৪ ঘণ্টা তালাবন্ধ থাকবে তেলেঙ্গানাও। গুজরাতের আমদাবাদ, সুরাত, ভডোদরা, রাজকোটে আগামী বুধবার পর্যন্ত কার্যত ‘লকডাউন’। ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুরো বিহারে বাস, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল বন্ধ থাকছে। বিহারে একজন মারা যাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত বেশি। গোয়ায় ১৪৪ ধারা। উত্তরপ্রদেশে কাল গণ-পরিবহণ বন্ধ। তবে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, রাজ্যের ১৫ লক্ষ দিনমজুর ও ২০ লক্ষ ৩৭ হাজার রাজমিস্ত্রিকে এক হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। কলকাতা-সহ উত্তর ২৪ পরগণা জেলাতেও ২৭ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

RELATED Articles

Leave a Comment