CoronaVirus: পাড়ায় পাড়ায় একসাথে বেজে উঠল কাঁসর-ঘন্টা-উলু, ফাটল আতশবাজিও

ঘড়িতে যেই কাঁটাটা পাঁচটা ছুলো সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে বেজে উঠল নানা রকম শব্দ! কেউ ঘণ্টা, কেউ কাঁসর, কেউ বা থালা বাসন বাজিয়ে উঠলো। সেই সঙ্গে শাঁখের আওয়াজ, উলুধ্বনি! কেউ বা বাজালেন বাঁশিও! কেউ কেউ আতশবাজি ফানুসও ছাড়লেন আর এই আওয়াজেই সব পাড়াই যেন সরগরম হয়ে উঠল।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করেন, সব নাগরিকদের রবিবার সকাল সাতটা থেকে রাত ন’টা অবধি বাড়িতেই থাকতে। আর এইভাবেই তিনি রবিবার দিনটিকে জনতা কার্ফু দিবস হিসেবে পালন করার কথা বলেছিলেন। তিনি সেই সঙ্গে আবেদন করেছিলেন, এই দিনই বিকেল পাঁচটায় জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত যে সব স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের অভিবাদন জানানোর জন্য যেন সকলে হাততালি দেন অথবা কিছু বাজিয়ে শব্দ করেন।

তাঁর কথা রেখেছেন দেশবাসী। সকাল থেকে দেশের প্রায় সব অংশই নিস্তব্ধ। যানবাহনের চাকাও থেমে গেছে। আজ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোননি কেউ।

এরপর কাঁটায় কাঁটায় বিকেল পাঁচটা বাজতেই তাঁর কথা শুনে সব পাড়ার মানুষজন একসাথে ঘণ্টাধ্বনি-শঙ্খধ্বনি দিয়ে ওঠে। কিন্তু এতটা সাফল্য মনে হয় কেউই আশা করেননি। দিনভর সোশ্যাল মিডিয়াতেও অবশ্য এ নিয়ে বহু পরিকল্পনা চোখে পড়েছে সকাল থেকেই। এমনকি সকাল থেকে নিজেদের পাড়ার ছবি শেয়ার করেন।

এরপর বিকেল পাঁচটা বাজতেই জানলায়, ব্যালকনিতে, বারান্দায় জড়ো হন মানুষজন। যার যেমন ইচ্ছে, শব্দ করে অভিবাদন জানান জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত মানুষদের জন্যে। কোথাও কোথাও মিনিট পাঁচেক পরেই শেষ হয়ে যায় শব্দধ্বনি আবার কোনও কোনও জায়গায় উৎসাহ বেশি থাকায় ফানুস, বাজিও ফাটিয়েছেন বলে শোনা গেছে।

বেশ কয়েক দিন ধরেই ইতালির নানা শহরের আনাচকানাচে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। তাঁরা বেরিয়ে এসে গান গাইছেন, হাততালি দিচ্ছেন, পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিবাদন জানাচ্ছেন। এরকম বেশ কিছু ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এবার তেমনই এক নজির গড়ে উঠল ভারতবর্ষ জুড়েও। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সাড়া দিলেন মানুষ। আগেও নয়, পরেও নয়, ঠিক পাঁচটাতেই। এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ কাজ বড় একটা এদেশে দেখা যায় না। অথচ এই করেনাভাইরাসের আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে, সারা দেশ যেন জোট বাঁধলেন, একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। এই রকম ঘটনার নজির খুব একটা এ দেশে দেখা যায়নি এর আগে।

RELATED Articles

Leave a Comment