২০৩০ সালের মধ্যেই সলিল সমাধি তিলোত্তমার! কিছু বছরেই জলের তলায় তলিয়ে যাবে কলকাতা, সামনে এল আশঙ্কার খবর

গোটা পৃথিবী জুড়ে তাপমাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের জন্যই বিশ্বে গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global warming) এত বেড়ে গেছে। মহাসাগরগুলি ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে। নাসা জানাচ্ছে “মহাসাগরগুলি গরম হওয়ার (Global warming)ফলে প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের চারপাশের অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়বে। বর্তমানে যে পরিমানে পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাস নিস্সরণ হচ্ছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.৫ সেলসিয়াস বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন আইপিসিসি।”

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় শহর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২টি উপকূলীয় শহরগুলির মধ্যে বর্তমানে ২৪টি প্রতি বছর ২ মিলিমিটার করে ডুবে যাচ্ছে।

‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই বিষয়ের গবেষণাপত্র। মার্কিন বিজ্ঞানীদের সাথে এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন পঞ্জাবের ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের গবেষকরাও। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “মার্কিন উপকূলরেখা বরাবর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৫০ সালের মধ্যে ০.২৫ মিটার থেকে ০.৩০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে উপকূলীয় শহরগুলি তলিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই শহরগুলির মধ্যে রয়েছে বস্টন, নিউ ইয়র্ক সিটি, জার্সি সিটি, আটলান্টিক সিটি, ভার্জিনিয়া বিচ, উইলমিংটন, মার্টেল বিচ, চার্লসটন, সাভানা, জ্যাকসনভিল, মায়ামি, নেপলস, বিলোক্সি, নিউ অরলিন্স, টেক্সাস সিটি, রিচমন্ড, সান ফ্রান্সিসকো, লং বিচ, সান্টা ক্রুজের মতো বেশ কিছু শহর।”

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ভূমিক্ষয়ের সমস্যার প্রভাব, এই শতাব্দীর শেষদিকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, আমরা যেখানে বসবাস করছি,তা ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বা ব্যাপক বন্যা সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে কয়েক মিলিমিটার ভূমিক্ষয়ও উপকূলীয় শহরগুলির বিপদ অনেকগুণে বাড়িয়ে তুলছে।”

আন্টার্কটিকার তাপমাত্রা বাড়ার ফলে লস এঞ্জেলে ফেব্রুয়ারি মাসেই গরম পরে গেছে। দুই মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাচ্ছে। উষ্ণায়নের ফলে সারা পৃথিবীতে ঝড়ের পরিমাণও বেড়ে গেছে। নাসা জানাচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অনেক অনেক জায়গায় দাবানল ও খরা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও বেশি এবং বরফ গলে যাচ্ছে।

নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে কলকাতা বা ভারতের কোনও শহরের কথা আলাদা করে বলা হয়নি। ২০২১ সালের ক্লাইমেট সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৩০ সালে বিশ্বের মানচিত্র কেমন হতে পারে, তা আগেই জানানো হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, কলকাতা-সহ বিশ্বের ছয়টি শহর এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে জলের নীচে চলে যেতে পারে। ২০৩০ সালের আগে কলকাতার একটা বড় অংশ বন্যা নিমজ্জিত হবে।

২০২৩-এ নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারতের চেন্নাই এবং কলকাতা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে মুম্বই, কোচি, ম্যাঙ্গালোর, বিশাখাপত্তনম এবং তিরুবনন্তপুরম।

RELATED Articles