গতকাল, রবিবার ছিল ব্রিগেডে তৃণমূলের জনগর্জন সভা। সেই সভা থেকেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। ৪২টি আসনেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় ঠাঁই হয়নি তৃণমূলের তারকা নেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ক্ষোভেই এবার তৃণমূলের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
গতকাল, রবিবারই জনগর্জন সভার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানান সায়ন্তিকা। এরপরই নিজের ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, “আমি গত ৩ বছর ধরে দলের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রতিবাদী ও উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে সামগ্রিকভাবে জড়িত ছিলাম। দলের সুনির্দিষ্ট পার্টিলাইন মেনে সমস্ত কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। এই পর্যায়ে আমি দলের সমস্ত রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি”।

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার কাছে হেরে যান সায়ন্তিকা। তবে ভোটে হেরে গেলেও বাঁকুড়াকে আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক করা হয়ে তাঁকে। বাঁকুড়ার সংগঠনের কাজ দেখতেন তিনি।
সূত্রের খবর, অনেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন যে লোকসভা নির্বাচনে সায়ন্তিকাকে টিকিট দেওয়া হবে। অভিনেত্রী নিজেও তেমনটাই ভেবেছিলেন হয়ত। কিন্তু তা হয়নি। বাঁকুড়ার দুই লোকসভা কেন্দ্রের একটিতে টিকিট দেওয়া হয় অরূপ চক্রবর্তীকে ও অন্যটিতে প্রার্থী করা হয়েছে সুজাতা মণ্ডলকে। লোকসভা ভোটে টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই যে তিনি পদত্যাগ করলেন, তেমনটাই অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।
বলে রাখি, লোকসভা নির্বাচনের টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ অর্জুন সিংও। ব্যারাকপুর থেকে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে পার্থ ভৌমিককে। এর জেরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে অর্জুনের মনে। কানাঘুষো খবর, এবার নাকি ফের বিজেপিতেই ফিরতে পারেন অর্জুন সিং। তিনি দিল্লি যাচ্ছেন বলেও শোনা গিয়েছে। ফলে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।





