‘যারা দিদির ক্ষতি করছে তাদের এবার দিদিমনির দেখা উচিত’, লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে অভিমানী মমতার ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, দলবদলের জল্পনা

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এখনও পর্যন্ত ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ না হলেও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। তাতে নাম রয়েছে বাংলার ২০ জন প্রার্থীর। আর গত রবিবার ব্রিগেডের ময়দান থেকে ৪২ জন প্রার্থীর নামই ঘোষণা করেছে তৃণমূল।

তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই ঘাসফুল শিবিরে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, অথচ শেষ মুহূর্তে টিকিট দেওয়া হয়নি, এমন অনেক নেতার কথাই সামনে আসছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ত্রিনমুকের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে লড়তে চেয়েছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী তাঁকে নাকি প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যারাকপুর থেকে টিকিট দেওয়া হয় পার্থ ভৌমিককে। সেই কারণে এবার অর্জুনের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাই শোনা যাচ্ছে।

এসবের মাঝে এবার ফের বিক্ষুব্ধ আরও এক তৃণমূল নেতা। তিনি আবার সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই। সেই ‘বাবুন’ ওরফে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও লোকসভা ভোটের টিকিট না পাওয়া নিয়ে এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। দিদির প্রতি বেশ অভিমানী ভাই। তাঁর দলবদলের জল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

কী বলছেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়?

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “প্রতিশ্রুতি অনেকদিন আগেই দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-এও দেওয়া হয়েছিল, ২০২১-এও দেওয়া হয়েছিল। আর ২০২৪-এর ভোটের জন্যও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো আর প্রতিশ্রুতি রাখা হল না। আমরা ময়দানেই আছি, খেলা তো হবেই”।

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, কারা আসলে দলের ক্ষতি চায়, কারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষতি চায়, তা এবার দেখা উচিত ‘দিদি’র। স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কারা দিদির ক্ষতি চাইছে, তা এবার একটু দিদির দেখা উচিত। এমন অনেকে আছেন যারা দিদির কান ভাঙান, কিন্তু দিদির হয়ে কোনও প্রচার করেন না। আমরা কিন্তু সেটা করি না”।

তাহলে কী এবার বিজেপির পথ ধরছেন মমতার ভাই?

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কী না, তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও তিনি দিল্লি গিয়েছেন বটে, তবে তাঁর দাবী, তাঁর এক ঘনিষ্ঠের চিকিৎসার জন্যই তাঁর এই দিল্লি যাত্রা। “সময় এলেই সব জানাব”, এমনটাই বক্তব্য তাঁর।

কী বলছে কংগ্রেস?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “এই নিয়ে আমার বিশেষ কিছু বলার নেই। কারণটা যদি পারিবারিক হয়ে থাকে, তাহলে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে এটাও ঠিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বলে বা অনেকদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেই যে সে পোক্ত রাজনীতিক হবেন, এমনটা তো নয়। আর সবাইকে মনোনয়ন দেওয়াও যায় না”।  

RELATED Articles