বাংলার ছোট্ট পড়ুয়াদের অবিশ্বাস্য কীর্তি, অবাক করা কান্ড ঘটাল ক্লাস ৪-৫ এর বাচ্চারা, খুদেদের সাফল্যে মুগ্ধ গোটা বিশ্ববাসী

Industrial Project: স্কুল এমন একটি জায়গা যেখানে বাচ্চারা কিছু শিখতে চায়, তাদের এই শেখাতে জানাতে সাহায্য করে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এমনই একটা স্কুলের নাম উঠে এল যাদের তথাকথিত শিক্ষার পাশাপাশি চলে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন জিনিস তৈরীর শিক্ষা। গান,আঁকা, সেলাই এমনকি হাতের কাজ, বিভিন্ন ধরনের খেলা বিভিন্ন স্কুলেই গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি এসবগুলি রাখা হয়। তবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রজেক্ট (industrial project) তৈরি করার ভাবনা কোন স্কুলের তরফেই ভাবা হয় না। ভাবা হলেও সেসব কাজ হয় না স্কুলে। উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ড এমন একটি স্কুল যেখানে বাচ্চাদেরও নানান কিছু জানার সুযোগ মেলে নতুনত্ব কিছু শেখার সুযোগ মেলে। বলাই বাহুল্য এমন স্কুলে নিজের সন্তানকে পড়াতে অনেক অভিভাবক অভিভাবকাই চাইবেন।

সম্প্রতি উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ড স্কুলের শিক্ষকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এমনিতে তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয়। স্কুলের কচিকাঁচাদের কাজ তিনি তুলে ধরেন তার সোশ্যাল মিডিয়ায়। কখনো কচিকাঁচারের যৌথ উদ্যোগে কোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজ (industrial project)  বা কোন ছোট্ট বাচ্চার নাচ বা গান বা হাতের কাজের ভিডিও তিনি তুলে ধরেছেন বারংবার। অসীম ঘোষ নামে ওই শিক্ষক তার স্কুল নিয়ে নিজেরাই প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সত্যিই তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য ওই ছোট্ট বাচ্চারা।

জানা গেছে, উজ্জল কিডস ওয়ার্ল্ড প্রথম স্কুল যেখানে বাংলা মিডিয়াম এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সিলেবাস কম্বাইন করে পড়ানো হয়। তাই এই স্কুল কে কম্বাইন স্কুল ও বলা হয়। এই স্কুলের বাচ্চারা বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই পারদর্শী। উজ্জল কিডস ওয়ার্ল্ড স্কুলের বাচ্চারা তাদের প্রথম ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্ট তৈরি করেছে। ‌এ প্রজেক্ট তৈরি করতে তারা সাকসেসফুল। প্রজেক্টটিই (industrial project) অটোমেটিক ফুচকা ওয়াটার ডিসপেন্সার। ওই স্কুলের শিক্ষক অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে ব্যাপারটি জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, “আমাদের প্রথম ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্ট সাকসেসফুল। প্রজেক্টটি হলো অটোমেটিক ফুচকা ওয়াটার ডিস্পেন্সার। আমার এখনও তারিক টা মনে আছে যেদিন ফার্স্ট ইন্ডাস্ট্রি থেকে ফোন এল ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে এবং আমাদের বলল এইরকম একটা প্রজেক্ট (industrial project) বানাতে পারবেন নাকি, তাহলে আমরা আপনাদের কাছ থেকে কিনে নেবো। আমাদের কোম্পানিতে যতগুলো লাগবে আমরা সব আপনাদের কাছ থেকেই নেবো। আমরা ১০ দিন আগে এই প্রজেক্টটি শুরু করি এবং আজকে তার রেজাল্ট।”

তিনি আরও জানান, “আমাদের স্কুলের উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ডের ক্লাস 4, 5 এর বাচ্চারা পুরো প্রজেক্টটা বানিয়েছে। বাচ্চাদের ভিতর এত পসিবিলিটি আছে যেটা কল্পনার বাইরে। কিন্তু বেশিরভাগ প্যারেন্টস এবং টিচাররা সেটা নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারে না।”

বাংলার ছোট্ট পড়ুয়াদের অবিশ্বাস্য কীর্তি, অবাক করা কান্ড ঘটাল ক্লাস ৪-৫ এর বাচ্চারা, খুদেদের সাফল্যে মুগ্ধ গোটা বিশ্ববাসী
Industrial project

নিজেদের স্কুল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ড এমন একটি স্কুল যেটা এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাচ্চাদের সব দিক থেকে পারদর্শী করছে।উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ডের ক্লাস 3 ,4 এর ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন Python, C#, C, HTML CSS JavaScript, Kotlin, Scratch, Pictoblox এ যেমন পারদর্শী, তেমনি তারা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজন্সের ব্যাবহার খুব ভালো করে জানে। তারা মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন, আরডুইনো দিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট এর কাজ জানে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যেমন ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড, এশিয়া বুক অফ রেকর্ড এ নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে, তেমনই ইন্টারন্যাশনাল মাথমেটিকস অলিম্পিয়াড এ নিজেদের জায়গা পাকা করেছে”।

এমনকি ওই স্কুলের শিক্ষক জানিয়েছেন তাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কি কি কাজ ইতিমধ্যেই করেছে যাতে তারা সাকসেসফুল হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, “উজ্জ্বল কিডস ওয়ার্ল্ডের ছাত্রছাত্রীরা একধারে যেমন গাড়ির ADAS system বানিয়েছে, অন্যদিকে অবস্টকেল ডিটেকশন সফটওয়্যার ডেভেলমেন্ট করেছে। এই স্কুলের বাচ্চারা যেমন কবিতা আবৃত্তিতে গোটা দেশে নিজেদের নাম করে নিয়েছে, তেমনই কিছু বাচ্চা খেলাধুলায়, ক্যারাটে, নাচ, গান, নাটক, মিউজিক, আর্ট, ক্র্যাফট, পড়াশোনায় ও কারো থেকে পিছিয়ে নেই। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বানানো ইলেক্ট্রিক টয় ট্রেনে ৬০ জন মানুষ চেপে ঘুরতে পারে, তাদের বানানো ইলেক্ট্রিক কারে ৪ জন চেপে ঘুরতে পারে, এছাড়াও বাচ্চারা ইলেকট্রিক সাইকেল, গ্রাস কাটার মেশিন, এর কুলার ও এরকম অনেক জিনিস বানাতে পারে।”

RELATED Articles