ফিরিয়ে দাও আমাদের শৈশব! ৭০ বছরের খেলার মাঠ জবরদখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে গ্রামের কচিকাচা-সহ বাসিন্দারা

এখন প্রায় সঙ্গে দেখা যায় জলা জমি মাঠ (playground) বুজিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় ইমারত। হারাচ্ছে শৈশবের খেলার মাঠ। মাঠের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত হচ্ছেই বলা চলে। যাদের মা বাবা না এককালে মাঠে ফুটবল খেলতে পেরে যেত তাদের ছেলেমেয়েরা আজ ঘরে ফোন নিয়ে বসে থাকছে। সবচেয়ে বড় অজুহাত খেলার মাঠে তো নেই, খেলব কোথায়? এবার সেই মাঠ বাঁচাতেই আন্দোলন করছেন সকলে।

৭০ বছরের পুরনো মাঠ (playground), সেখানে রোজই শরীরচর্চা, খেলাধুলা পড়তে আসে প্রায় দশটি গ্রামের বাসিন্দারা। হঠাৎই সেই মাঠ (playground) দখল হয়ে যাচ্ছে। ‌ মাঠ দখল করে নির্মাণ এর কাজে লাগানো হচ্ছে সেই মাঠ থেকে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে এই প্লেকার্ড হাতে আন্দোলনে নামলেন গ্রাম বাসিন্দারা। মাঠ বাঁচানোর তাগিদে এ আন্দোলনে নেমে পড়লেন গ্রামের নবীন থেকে প্রবীণ সকলেই। ঘটনাটি বাঁকুড়া জেলখর ছাতনা ব্লকের ঘোষের গ্রাম পঞ্চায়েতের দলপুর এলাকার।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই মাঠে (playground) খেলে আসছেন এলাকার বাচ্চারা। এমনকি ওই মাঠ গ্রামের বাসিন্দাদের শুদ্ধ বায়ুর যোগান দিয়ে আসছে। সকাল বিকেল নিত্যদিনের ভিড় লেগে থাকে মাঠে। শরীর চর্চা, অনুশীলন, খেলাধুলা পড়তে ওই মাঠেই একমাত্র সম্বল প্রায় ১০-১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের। সে মাঠই অন্য কব্জায় চলে যাচ্ছিল। এমনকি গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, ওই মাঠেই শরীর চর্চা করে বেশ কয়েকজন যুবক দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন। তাই ওই মাঠ (playground) গ্রামবাসীদের গর্বের মাঠ,গড়ে ওঠার মাঠ। ওই মাঠে সকাল বিকেল ভিড় করেন কত যুবকরা শরীরচর্চা খেলাধুলা চলতে থাকে প্রায় সময়ই।‌ ওই মাঠে সরকারি উদ্যোগেও বেশ কিছু খেলাধুলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেই মাঠ দখল করতে এসেছেন অন্য লোকেরা। তাতেই রুখে দাঁড়িয়েছেন গ্রামবাসী। ‌

গ্রামবাসীদের কথায়, ‘বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এলাকার ছেলে মেয়েরা ওই মাঠে (playground) খেলাধূলা করে। আশেপাশের ১০ থেকে ১৫টা গ্রামের মানুষের নিত্য জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত এই মাঠ। কিন্তু কোনও কিছু না জানিয়েই বর্তমানে মাঠে খনন কার্য শুরু করেছে এক শ্রেনীর মানুষ।’ গ্রামবাসীদের অভিযোগ স্থানীয় পঞ্চায়েতে ব্যাপারটি জানানো হলেও কোন সুরাহা মেলেনি। এমনকি গ্রাম বাসীদের তরফে জেলাশাসকের দপ্তরেও মাঠে নির্মাণ কার্য নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে তাতেও তেমন কোনো সাড়া পাননি গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীদের থেকে মাঠ দখলের অভিযোগ প্রকাশে আসতেই সেই মাঠ (playground) নিয়ে রাজনীতি নেমেছে শাসকবিরোধী দুই দলই। তৃণমূল বিজেপি দু পক্ষই মাঠ দখলের বিরুদ্ধে। ‌ তৃণমূলের তরফ ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বঙ্কিম মিশ্র বলেন, “বাচ্চাদের এই মাঠ দখলকে কোনভাবেই আমরা সমর্থন করি না, নির্বাচনী বিধি লাগু হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি কোনো কাজ করা যায় না। অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আবার বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই মাঠ (playground) দখল তৃণমূলের নেতাদের মদতেই চলছে, যাকে এক কথায় বলতে গেলে প্রোমোটাররাজ, আমরা এই ঘটনায় ধিক্কার জানাই। বাচ্চাদের মাঠ বাচ্চাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

গ্রামবাসীরা মাঠ (playground) ফিরে না পেলে বড়সড়ো আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ‌এখন দেখার গ্রামবাসীরা তাদের পুরনো খেলার মাঠ ফিরে পান কিনা।

RELATED Articles