দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৫ জন। নতুন করে ৮ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে। এমতাবস্থায় কেন্দ্র দেশের মানুষকে বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। বিভিন্ন রাজ্যেও মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যের মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা দিচ্ছেন। আপৎকালীন
তহবিলও সৃষ্টি করছেন। সেখানে আমাদের রাজ্যের কী অবস্থা?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু আদেও কি তাই? রাজ্যের যেসকল সাংসদ এখনও পর্যন্ত নিজের সাংসদ তহবিল থেকে করোনা রোধে অনুদান দিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কিন্তু বিজেপির সদস্য। নিজের সাংসদ তহবিল থেকে আশি লক্ষ টাকা বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুরের মানুষের জন্য দান করেছেন এলাকার সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।ঝাড়গ্রাম নির্বাচনক্ষেত্রের জন্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অনুমোদন করলেন সাংসদ কুনার হেমব্রম। সাংসদ তহবিল থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় হুগলির জন্য এক কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন। সাংসদ ডঃ জয়ন্ত কুমার রায় জলপাইগুড়ি জেলার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছেন। মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের জন্যে ৭০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ১ কোটি টাকা প্রদান করেন বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীও ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান করেন করোনা মোকাবিলায়। পূর্ব বর্ধমান-এর সাংসদ এস এস আহলুওয়ালিয়াও করোনা মোকাবিলায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা প্রাদান করেন। এছাড়াও সাংসদ সদস্য ডঃ সুভাষ সরকার বাঁকুড়া জেলার জন্য ১কোটি টাকা প্রদান করেন। কোচবিহার এর সাংসদ শ্রী নিশীথ প্রামানিক করোনা আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের স্বার্থে তার সাংসদ তহবিল থেকে ৫০লক্ষ টাকা অনুদান করেন। বালুর ঘাটের সাংসদ শ্রী সুকান্ত মজুমদার নিজের সাংসদ তহবিল থেকে করোনা রোগ সংক্রান্ত খরচের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেন। প্রসঙ্গত, এঁরা প্রত্যেকেই কিন্তু বিজেপির সদস্য। এমনকি বাম বিধায়করাও নিজ নিজ বিধায়ক তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছেন করোনা হানা ঠেকাতে, এই মর্মে গতকাল চিঠিও দিয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
সেখানে তৃণমূল সাংসদরা তাদের সাংসদ তহবিল থেকে টাকা দিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তা শোনা যায়নি। এই বিষয়ে তাঁদের কোনো উচ্চবাচ্যও শোনা যাচ্ছে না। এদিকে কেন্দ্র গতকাল ১৫ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অনুমোদন করেছে। ৫২০০০ হাজার কোটি টাকা আদায়কৃত শুল্ক থেকে দিনমজুরদের এককালীন অনুদান প্রদান করা হবে, কেন্দ্র থেকে তাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই টাকা রাজ্যের মাধ্যমেই দিনমজুরদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-এ পাঠানো হবে।
সেখানে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ কতটা সত্য? আপনারাই বিচার করুন। এই সংকটের সময় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে কাজ করাই উচিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






