বাথরুমের সাফাই কর্মী থেকে দুটো কোম্পানির মালিক, উপার্জন কোটি কোটি টাকা, কীভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরল দাদাসাহেব ভগতের?

একসময় দিনে ৮০ টাকা মজুরিতে বাথরুম পরিষ্কার করা থেকে ঘর মোছা (cleaner) সব কাজই করেছেন। আজ তিনি দুটো কোম্পানির মালিক। ‌এই ছেলের বর্তমান আয় বছরে কোটি টাকার কাছাকাছি।‌ Infosys কোম্পানিতে পিয়নের চাকরি করার সময় বড় বড় ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে পায়ে ধরে এসে শিখেছিল কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ। তারপরে কম্পিউটার শেখা দিয়েই তার ভাগ্য বদলে গেছে। গেস্ট হাউসের সাফাই কর্মী থেকে গ্রামের পিয়ন থেকে আজ সেই ছেলেটা নিজের যোগ্যতায় দুখানা কোম্পানি চালায়। চেষ্টার বেদ থাকলে গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরাও স্বপ্ন ছুঁতে পারে। ‌

ছেলেটার নাম দাদাসাহেব ভগত। মহারাষ্ট্র এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক গরিব পরিবারে বেড়ে উঠেছিল দাদাসাহেব। হাই স্কুল পাশ করার পর আইটিআই কোর্স করতে করতেই ছেলেটি বুঝে গেছিল চাকরির প্রয়োজন। নয়তো পরিবারের লোকজন খেতে পাবে না। তাই দিনপ্রতি ৮০ টাকার বিনিময়ে পাশের গ্রামের একটা গেস্ট হাউসে চা জল দেওয়া, ঘর মোছা, বাথরুম পরিষ্কারের (cleaner) কাজে ঢুকে পড়ে ছেলেটি।

২০০৯ সালে গ্রাম থেকে শহরে আসেন। বড় কোম্পানিতে পিয়নের চাকরি জোটে তার। ‌ মাইনে পেতেন ন হাজার টাকা। ‌ এই Infosys কোম্পানিতে কাজ করার সময় দাদা সাহেব দেখেন বড় বড় ইঞ্জিনিয়াররা দামি গাড়ি চেপে অফিসে আসেন। সামান্য পিয়নের চাকরি করা দাদা সাহেবের মনেও স্বপ্ন বুনতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পয়সা জোগাড় করতে পারবেন না কখনোই তা ভাল মতই জানতেন তিনি। এমন গরিব সংসারে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পয়সা কোথায়। তাই ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে পায়ে ধরেন দাদা সাহেব। সারাদিন পিয়নের কাজ করে রাত্রেবেলা কম্পিউটারে কাজ শেখা শুরু করেন নাইট শিফটে থাকা ইঞ্জিনিয়ারদের থেকে।

এভাবেই ধীরে ধীরে গ্রাফিক ডিজাইনিং অ্যানিমেশন এর কাজ শিখে ফেলেন দাদা সাহেব। অনলাইনে C++ কোর্সও করে ফেলেন জাভা ও পাইথনের। একজন ইঞ্জিনিয়ার কলেজ থেকে যা শিখে আসেন তার সবটাই তিনি শিখে ফেলেছিলেন। ক্রমশই সেই কাজে রপ্ত হতে থাকেন তিনি। তবে সে সময় ভাগ্য সহায় দেয়নি। আচমকা দুর্ঘটনায় গ্রামে ফিরে আসতে হয়েছিল দাদা সাহেবকে। বড় কোম্পানিতে পিওনের চাকরিটাও চলে যায় তার। তবে কিছুই তাকে দমাতে পারেনি।

গ্রামে এসে বন্ধুর থেকে ল্যাপটপ নিয়ে তিনি বিভিন্ন অনলাইন টেমপ্লেট বানাতে শুরু করেন আর সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে শুরু করেন। এভাবেই একজন সাফাই কর্মী, পিয়ন থেকে তিনি ডিজাইনিং দুনিয়ায় ঢুকে যান। ২০১৬ সালে তার প্রথম কোম্পানি নাইন মোশনের সূচনা করেন দাদাসাহেব। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে চল্লিশ হাজার গ্রাহক এসে ভিড় করে তার কোম্পানিতে। কম পয়সায় গ্রাফিক ডিজাইনিং করে দিতেন দাদাসাহেব।

কোম্পানি বড় হচ্ছে দেখে ডুও গ্রাফিক্স নামক আরেকটি কোম্পানি খুলে বসেন তিনি। যেখানে মোশন গ্রাফিক্স, থ্রিডি টেমপ্লেটের কাজ হত। কাজে রাখেন আরো বেশ কিছু ছেলে মেয়েকে। তবে এই কোম্পানি ছিল একটি খোলা মাঠের মধ্যে। খোলা মাঠের মধ্যে তাঁবু খাটিয়ে এডবেস্টার দিয়ে ঢেকে শুরু হয়েছিল দাদা সাহেবের এই দ্বিতীয় কোম্পানি। এই কোম্পানিতে এই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের ক্লায়েন্ট আসতে শুরু করেন।

যে ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে পায়ে ধরে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখেছিল। আর আজ সেই ছেলেই ওই ইঞ্জিনিয়ারদের থেকে বেশি টাকা রোজগার করে। এবছর শার্ক ট্যাঙ্কে ইন্ডিয়াতেও এসেছিল দাদা সাহেব ভাগত ও তার কোম্পানি। সেখানে বোটের আমান গুপ্তা দাদা সাহেবের স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলতে ফান্ডিং করার জন্য রাজি হয়ে যান।

আরও অন্যান্য খবর