‘সব মা-বাবা চান তাদের মেয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে, আমার মা-বাবারও স্বপ্ন ছিল…’, মা-বাবার স্বপ্ন কী পূরণ করতে পেরেছেন অপরাজিতা?

টলিপাড়ায় অপামাকে (Aparajita Auddy) অনেকেই চেনেন। বাংলা টেলিভিশনের আদর্শ মা তিনি। কখনও জন্মদাত্রী আবার কখনও পালিতা মা হিসাবে দর্শকদের নজর কেড়েছেন অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy)। বর্তমানে ‘জল থৈ থৈ ভালোবাসা’ কোজাগরির চরিত্রে অপরাজিতা আঢ্যর রূপে মুগ্ধ দর্শকরা। শুধুমাত্র ধারাবাহিক নয় বহু সিনেমায় মায়ের ভূমিকা অভিনয় করেছেন তিনি।

চিনি, একান্নবর্তী মত ছবিতে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে অনুরাগীদের মন জয় করেছেন। যিনি টিভির পর্দায় মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন বাস্তব জীবনে নিজের সন্তানের মুখে মা ডাক শোনার সুযোগ হয়নি তার। স্বামী অতনু হাজরার সাথে ২৬ বছরের সুখী দাম্পত্য তার। শ্বশুরবাড়ির সকলকে নিয়ে বেশ খুশিতে থাকেন বৌমা অপরাজিতা (Aparajita Auddy)

অপরাজিতার (Aparajita Auddy) জীবনে সাক্ষাৎকারে বারবার উঠে এসেছে তাঁর মায়ের প্রসঙ্গ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তার মা-বাবার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন। অভিনেত্রীর কথায়, “ছোটবেলা থেকে বাচ্চা মানুষ করে মা-বাবারা ভাবেন হয় মেয়ের খুব ভালো বিয়ে হবে, সুন্দরী মেয়েকে ভালো বিয়ে দেব, নয়তো মেয়ে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, স্কুল টিচার হবে এর বাইরে তো বাঙালি কিছু ভাবতে শেখেনি। কিন্তু আমার মা-বাবা চিরকাল স্বপ্ন দেখতেন, আমিও স্বপ্ন দেখতাম আমি শিল্পী হব। আমি ডান্সার হব, বা অভিনেত্রী কিছু একটা হব। পরবর্তীকালে যখন অভিনেত্রী হয়েছি আমার বাবা ছিলেন না, আমার বাবা মারা গেছিলেন। আমার অভিনেত্রী হওয়াটা আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ, আমার বাবারও স্বপ্ন পূরণ, আমারও স্বপ্ন পূরণ। আমার বাবা মা কেউই চাননি আমার বাড়িতে যেমন সবাই এডভোকেট প্রফেশনে আছে সেরম কিছু বা স্কুল টিচার এরম কিছু হব। সব সময় চেয়েছিলেন আমি শিল্পী হই”।

কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর ডাকাবুকো মায়ের কথা। জানিয়েছেন, মায়ের সাহসের কথা। ছোট বয়সে সকলেই একটু আধটু প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে। অপরাজিতাও (Aparajita Auddy) ছোটো বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেমের প্রসঙ্গ তুলে‌ অপরাজিতা (Aparajita Auddy) বলেন, “আমার যার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আমার মায়ের তাকে একদমই পছন্দ নয়। সেটার জন্য মা আমাকে প্রচুর মারধর করেছে। এবার আমাদের ওখানে রক্ষাকালী তলায় মা আমাকে নিয়ে গেছেন, তুই এখানে হাত দিয়ে বল যে তুই আর এই কাজটা করবি না। ছোট বয়সেও অপরাজিতা মা কালীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন তার মিথ্যে প্রতিজ্ঞার জন্য”। এতটাই কড়া ছিলেন অপরাজিতার (Aparajita Auddy) মা। একা হাতেই দুই ছেলে মেয়েকে বড় করেছেন অপরাজিতা মা। তিনি আজ নেই। তবে তিনি কী সাহসী, স্বাধীনচেতা এক নারী ছিলেন তা বারেবার বলেছেন অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, অসম্ভব শক্ত মনের মানুষ ছিলেন অভিনেত্রীর মা।

এর আগে বহু সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজের জন্মের কথা জানিয়েছেন। যা কোনও সাধারণভাবে নয়। ‌অপরাজিতার (Aparajita Auddy) নিজের জন্মও খুব একটা সাধারণ ভাবে হয়নি বলে জানিয়েছেন। সাত মাসেই এসেও বাঁচার আশা ছিল না। তিন মাস থাকতে হয় হাসপাতালে। সেই কারণেই মেয়ের নাম অপরাজিতা রাখেন তাঁর পরিবার। জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে যিনি জন্মেছেন। তিনি যে তার জীবনের সব যুদ্ধই জয় করবেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল তাঁর পরিবার।

RELATED Articles