ডাক্তার যেন ভগবান! মারনরোগের শিকার তিন বছরের খুদে, বোনম্যারো প্রতিস্থাপন করে একরত্তিকে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত করলেন কলকাতার চিকিৎসক

ক্যানসারের মতো থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) এমন একটি রোগ যা সঠিক সময় ধরা না পড়লে মারণ রোগে পরিণত হয়। থ্যালাসেমিয়া এমন একটি রোগ, যাতে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। প্রধানত তিন ধরনের থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) দেখতে পাওয়া যায়। আলফা থ্যালাসেমিয়া, বিটা থ্যালাসেমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে শরীরে রক্তাল্পতা দেখা যায় এবং বারবার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়।

এবার তিন বছরের একটি ছোট্ট শিশু থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) মুক্ত হল। বদলে গেল তার রক্তের গ্রুপ। ‌ ওই ছোট্ট শিশুটির বোনম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পূর্ব ভারতের এনআরএস হেমাটোলজি বিভাগে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যা এখন আইসিএমআর-এর আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডানকুনির জিয়া ঘোষ বিটা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ছিল। তাকে প্রত্যেক মাসে দুই ইউনিট করে রক্ত নিতে হত বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৩ ইউনিট রক্ত নিয়েছে শিশুটি। রক্ত সঞ্চালনের পর দিন কয়েক সুস্থ থাকত, তবে এবার হিমোগ্লোবিন জমা হচ্ছিল লিভারে। পেট ফুলে উঠছিল। রক্তাল্পতা হয়ে গেছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রায় ২৯ দিন আগে জিয়া ঘোষকে দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালে ভর্তি সিদ্ধান্ত নেন হেমাটোলজির অধ‌্যাপক ডা. রাজীব দে।

ডা. রাজীব দে বলছেন, “জিয়ার দিদি’র শরীর থেকে অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দিদিও থ‌্যালাসেমিয়ার (Thalassemia) বাহক।” জিয়াকে দেখে বিভাগের আরও এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‌অস্থিমজ্জা (বোনম‌্যারো) প্রতিস্থাপনের আগে ছয়দিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর কড়া ডোজের কেমোথেরাপি করা হয়েছে। ফলে থ‌্যালাসেমিক কোষ যেমন ধ্বংস হয়েছিল, রক্তের সুস্থ অস্থিমজ্জাও নষ্ট হয়। তাতেই সমস্যায় পড়েন চিকিৎসকরা।

কলকাতা মেডিক‌্যাল কলেজের হেমাটোলজি অ‌্যান্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের অধ‌্যাপক ডা.বিপ্লবেন্দু তালুকদার বলেন, “মা-বাবার থেকে অস্থিমজ্জা সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করলে অর্ধেক কাজ হত। কিন্তু দিদির থেকে নেওয়ায় পুরো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে।”

ডা. রাজীব‌‌ দের কথায়, ছোট্ট জিয়ার ব্লাড গ্রুপ ছিল ‘বি’, আর তার দিদির ছিল ‘এ’ ব্লাডগ্রুপ। অস্থিমজ্জা সফল প্রতিস্থাপনের পর জিয়ার রক্তের গ্রুপ বদলে ‘এ’ হয়েছে। প্রায় সাতদিন আইসিইউতে ভর্তি থাকার পর, ২২ দিন পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার বিকেলে বাড়ি ফিরেছে জিয়া। কলেজের উপাধ‌্যক্ষ ডা.ইন্দিরা দে বলেছেন, “জিয়া সুস্থ হওয়ায় আর যেসব শিশু এমন মারণ সমস‌্যায় ভুগছে তারাও চিকিৎসার আওতায় আসবে।”

RELATED Articles