ম্যাজিক ফিগার পার NDA-র, হেডকোয়ার্টারে জয়ের আনন্দ উদযাপন বিজেপির, ‘দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের জয়’, বললেন মোদী

‘আব কি বার, ৪০০ পার’, এই স্লোগান নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের বীজ বপন করা শুরু করেছিল বিজেপি। কিন্তু আজ, ৪ জুন লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল, ৪০০ তো দূর, ৩০০ আসনও পার করতে পারে নি এনডিএ জোট। কিন্তু তাতে কী! ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। ফল তৃতীয়বারের জন্য দিল্লির মসনদে বসতে কোনও বাধা নেই তাদের।

এদিন জয়ের পর বিজেপি হেডকোয়ার্টারে দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ উৎসবে সামিল হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা প্রমুখ। এদিন প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখেন মোদী। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করেন। তাদের উৎসাহ জোগান।

এদিন বক্তব্যের প্রথমেই মোদী বলেন, “আপনাদের আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ। আজ বড় মঙ্গলের দিন। দেশবাসী বিজেপি তথা এনডিএ-র উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন। আজকের এই জয় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের জয়। ভারতের সংবিধানে অটুট নিষ্ঠার জয় এটি। বিকশিত ভারতের অঙ্গীকারের জয়। সবকা সাথ, সবকা বিকাশের জয়। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জয় এটি”।

এনডিএ যে ম্যাজিক ফিগার পার করেছে, তাতে বেশ আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মোদী। বলেন, “আমার মায়ের মৃত্যুর পর এটা আমার প্রথম নির্বাচন। কিন্তু দেশের নানান প্রান্ত থেকে আমি মা-বোনেদের যে আশীর্বাদ ও ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে নিজের মায়ের শূন্যতা অনুভব করিনি। দেশের যেখানে গিয়েছি, সেখান থেকে মা-বোনেদের ভালোবাসা পেয়ছি। মহিলাদের ভোটেই এবার দেশে রেকর্ড তৈরি হয়েছে”।

নানান রাজ্যে বিজেপির ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করে মোদী বলেন, “ওড়িশা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছে এনডিএ। এই সমস্ত এলাকায় কংগ্রেস সাফ হয়ে গিয়েছে। ওডিশায় সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। লোকসভাতেও সেখানে দুর্দান্ত ফল হয়েছে। এই প্রথমবার মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের মাটিতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে। কেরালাতেও আসন পেয়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ু, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, দিল্লিতেও বিজেপি ভালো ফল করেছে। বিহারেও নীতীশবাবুর নেতৃত্বে ভালো ফল করেছে এনডিএ”।

এদিন অবশ্য বিরোধী জোটকে একহাত নিতেও ছাড়েন নি মোদী। বলেই দেন, “বিজেপি একলা যত আসন জিতেছে, বিরোধীরা একজোট হয়ে ততগুলো আসন জিততে পারেনি”।

মোদীর কথায়, “২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশ অন্ধকারে ডুবে ছিল। প্রতিদিন দুর্নীতির খবরে ভরা থাকত সংবাদপত্র। দেশের যুব প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। সে সময় দেশের মানুষ আমাদের উপর ভরসা করেছিল। তারপর ২০১৯ সালে দেশবাসী আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সেই ভরসা অটুট রেখেছিল। এবার তৃতীয়বার আমাদের দেশের মানুষ দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন”।

RELATED Articles