নববর্ষের আবহে যখন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক প্রচার জোরকদমে চলছে, তখন হুগলির চুঁচুড়ায় এক শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। প্রচারের মঞ্চে বড় নেতার উপস্থিতি সাধারণত কর্মীদের উৎসাহ বাড়ায়, কিন্তু সেই উপস্থিতি যদি হঠাৎ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে স্বাভাবিকভাবেই। ঠিক এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল চুঁচুড়ার রাজনৈতিক মঞ্চ।
চুঁচুড়া তিন নম্বর গেটের বিজেপি জেলা অফিসের সামনে থেকে নববর্ষের শঙ্খনাদ শোভাযাত্রা শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এই যাত্রা শুরু হওয়ায় প্রথম থেকেই কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়। কাঠফাটা রোদে কর্মীরা শোভাযাত্রায় অংশ নিলেও, শুরুতেই ছন্দপতনের ইঙ্গিত মিলেছিল বলে জানাচ্ছেন উপস্থিত অনেকেই।
শোভাযাত্রা যখন এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কেন্দ্রীয় প্রাক্তন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি হঠাৎই মাঝপথ থেকে ফিরে যান। জানা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে শোভাযাত্রা শুরু না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জেলা সভাপতির অনুপস্থিতিও তাঁর অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। ফলে অর্ধেক পথ পেরোতেই তিনি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট হতাশা দেখা যায়।
শুধু শোভাযাত্রা নয়, ঘড়ির মোড়ে একটি সভার কথাও ছিল। সকাল থেকেই সেখানে প্রচার চলছিল যে স্মৃতি ইরানি উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। তিনি এলেও শেষ পর্যন্ত সেই সভায় অংশ নেননি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কর্মসূচিতে হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়-এর অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে সংগঠনের ভেতরের সমন্বয় নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ তল্লাশির পর ডাটা ডিলিটের নির্দেশ, IPAC কর্তার গ্রেফতারে ইডির বি*স্ফোরক দাবি! রাজনৈতিক টাকার গোপন চক্রের ইঙ্গিত?
এদিকে বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ জানান, স্মৃতি ইরানির অন্য কর্মসূচি থাকায় তিনি ফিরে যান। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, কর্মীরা তাঁর অনুপস্থিতিতে কিছুটা হতাশ হয়েছেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সূচনা করার কথা থাকলেও, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালন করেন সুবীর নাগ নিজেই। পাশাপাশি তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে এই পুরো ঘটনায় যে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।





