গতকাল, ৪ জুন ছিল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন। রাজ্যে ৩০টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০টি আসনও জিততে পারে নি বাংলা থেকে গেরুয়া শিবির। ১২-তেই আটকে যায় বিজেপির জয়ের রথের চাকা। কেন বাংলায় ফের ভরাডুবি হল বিজেপির? কারণ জানিয়ে দিলেন বিষ্ণুপুরের প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ।
বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়েছিলেন গত দু’বারের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এবারে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল। গতকাল সন্ধ্যেবেলা ফলাফল প্রকাশিত হয় যে সৌমিত্র খাঁ জিতেছেন বিষ্ণুপুর কেন্দ্র থেকে। কিন্তু এরপরই সেখানে শুরু হয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। আর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় রাতে। জানা যায়, সুজাতা মণ্ডলের থেকে ৫০০০ বেশি ভোটে জিতেছেন সৌমিত্র খাঁ।
কেন বাংলায় বিজেপির এমন খারাপ ফল করল?
বিজেপি নেতার কথায়, অনেক প্রার্থীরাই ভোটের পর স্ট্রং রুমের দিকে বিশেষ নজর দেন নি। ফলে সেখান থেকে ভোট লুট হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই গিয়েছিল। বলে রাখি, বিষ্ণুপুরে ভোটের পরদিন স্ট্রং রুম থেকে ইভিএম লুট করার অভিযোগ করেছিলেন সৌমিত্র খাঁ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি।
সৌমিত্রের অভিযোগ, অনেক রাজ্যস্তরের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেই তৃণমূলের সেটিং হয়েছিল। হেরে যাওয়ার সেটাও একটা বড় কারণ বলে জানান বিজেপি নেতা। তবে কী শুভেন্দুকে নিশানা করলেন তিনি? সৌমিত্রের জবাব, “না শুভেন্দুদা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ত্র আশেপাশের অনেকেই তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে নিয়েছিল। যারা রাজ্য থেকে জেতেনি, তারা রাজনীতির আর কী বুঝবে। রাজনীতি ভালোভাবে না জানলে ভোটে জেতা সম্ভব নয়”।
সৌমিত্রের কথায়, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো কাজ করেছেন, তাই তৃণমূল জিতেছে। মহিলা ভোট বা সংখ্যালঘু ভোট আদায়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন তিনি। আমাদের বুঝতে হত যে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপি পাবে না। মহিলা ভোটের উপর জোর দেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু সেটা করতে পারা যায়নি। তৃণমূলের কাছে সংখ্যালঘু ভোট, মহিলা ভোট দুটোই রয়েছে, তাই জিতেছে”।
তাহলে কী তৃণমূলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার?
সৌমিত্রর সাফ জবাব, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্যই তৃণমূল এতটা জয় পেয়েছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি কর্মীদের বউরাও দলে দলে গিয়েছে আমাদের সঙ্গে। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় তৃণমূলকেই ভোটটা দিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারণ”।





