Covid19 Crisis: এই লকডাউন সম্পূর্ণ ‘অপরিকল্পিত’, বলে আখ্যা দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী

করোনার জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন জারি করেছেন। কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক মানুষেরা। এই সূত্রকে তুলে ধরে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী এই লকডাউনেকে “অপরিকল্পিত” বা “আনপ্ল্যান্ড” বলে ঘোষণা করলেন।

তিনি বলেন, “চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামের ব্যবস্থা না থাকায় এবং দেশ-এ চিকিৎসার পরিকাঠামোর অভাব থাকায় সংক্রমনের হার বেড়ে চলেছে। এর সম্পূর্ন দায়ভার সরকারের ওপর বর্তায়। এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাব্য সকল সহায়তা করা। কিন্তু চিকিৎসকদের জন্য করোনার সংক্রমন রোধের ঠিকঠাক জিনিসও মজুত নেই এবং রুগীদের জন্য ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই।”

কংগ্রেস প্রধান উল্লেখ করেন যে, কোভিড-১৯ সংকট বিশ্বজুড়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে তবে মানবতাকে ঐক্যবদ্ধ করে “ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। আর সেক্ষেত্রে আমাদের দেশেরও এই সঙ্কটময় পরিস্হিতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন একতা।”

এই লকডাউনের ফলে দেশের দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো খুবই অসুবিধায় পড়েছে। কারখানা, অফিস সব কিছুই এখন বন্ধ তার ওপর বাজার থেকে কিছু কেনার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। খাদ্য ও আশ্রয়হীন মানুষ পথে হেঁটে তাদের বাড়ি ফিরছেন। এটি খুবই হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। তিনি আরো বলেছেন এই লকডাউনের সময় কৃষকরা চাষ-এর জন্য উপযুক্ত বীজ, কীটনাশক পাচ্ছে না ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যারা মাঝারি এবং ছোট ব্যবসার সাথে যুক্ত তাদেরও ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির গ্রাফটা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমনিতে মধ্যবিত্ত মানুষের বাড়িতে চাকরির অভাব তার ওপর পেট্রোল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সবের মধ্যে মানুষ দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। সরকারের এই দেশব্যাপী লকডাউন “অপরিকল্পিত” বাস্তবায়ন দরিদ্রদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করায় চরম সমালোচনা করলেন তিনি।

আমরা আজ যে কাজ করি তা আগামীতে আমাদের পরিবার এবং আগত প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।তাই এখন আমাদের ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে। তিনি কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন মনোনীত হাসপাতাল, শয্যা সংখ্যা এবং পরীক্ষার সুবিধাসমূহ, পাশাপাশি সাধারণ জনগণের কাছে চিকিৎসা সরবরাহের প্রাপ্যতা সম্পর্কিত তথ্যগুলি প্রকাশ করার।

তিনি বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি সাধারণ ন্যূনতম ত্রাণ কর্মসূচী প্রস্তুত ও প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছি,” যা এই মুহূর্তে অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে এবং বর্তমানে সমস্ত মানুষের মনে যেসব উদ্বেগ জাগিয়ে তুলেছে, তা দূর করতে সহায়তা করবে।

RELATED Articles

Leave a Comment