লোকসভা নির্বাচনের ২৯টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ৩০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিলেও শেষমেশ বিজেপির জয়ের রথ আটকে যায় ১২-তেই। ফলে বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে দারুণ ফল করে ঘাসফুল শিবির। মহিলাদের ভোটের জন্যই যে তৃণমূল এমন ফল করেছে, তা মেনে নিলেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়।
আজ, বুধবার বরানগরে এক সভা করেন সৌগত রায়। সেখানেই তৃণমূলের এই জয়ের কারণ নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেই বিষয়ে বলতে গিয়েই উঠে আসে মহিলা ভোট বাক্সের কথা। সেই প্রসঙ্গ টেনে সৌগত রায় বলেন, তৃণমূলের জয়ের পিছনে আসলে মহিলাদেরই অবদান রয়েছে।
দমদমের সাংসদের কথায়, “মহিলারাই আমাদের জিতিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার যদি না থাকত…যাঁরা বহুতলে থাকেন, অনেক জায়গায় তাঁরা আমাদের ভোট দেয়নি। ঝুপড়ির গরিব মহিলারা যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছেন তাঁরাই আমাদের রক্ষাকর্ত্রী। আমাদের ঢেলে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু শহরের একটা অংশ আমাদের ভোট দেননি। মনে রাখতে হবে যাঁরা অবস্থাপন্ন, বড় ফ্ল্যাটে থাকেন তাঁরা ভোট দেননি”।
বলে রাখি, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘোষণা যে ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলেছিল, তা বলাই বাহুল্য। সেই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে পেতেন ৫০০ টাকা করে আর তফশিলি জাতির মহিলারা পেতেন ১০০০ টাকা করে প্রতি মাসে। লোকসভা নির্বাচনের আগেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে মাসিক ১০০০ টাকা ও তফশিলি জাতির মহিলাদের মাসিক ১২০০ টাকা করা হয়। আর এটাই ছিল তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জেরেই যে লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী সহজেই পার করেছে তৃণমূল, তা দলের নেতারাই স্বীকার করেছেন। আর এবার তা মেনে নিলেন সৌগত রায়ও।
সৌগত রায়ের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “উনি কিছুটা হলেও সত্যি হয়েছেন। উত্তরবঙ্গের লোকেরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাননি? সন্দেশখালিতে মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাননি? স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডে লিড করেছে বিজেপি। আসলে জনগণ প্রত্যাখান করছে এই সরকারকে”।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীও এই ধরনের কথা বলেছেন। সরকারি টাকা দিয়ে মানুষ কেনা গোলাম হয়ে যাবে এই চিন্তাভাবনা বরদাস্ত করা যায় না”।





