বাবা অসুস্থ, সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে খাবারের দোকান চালাচ্ছে গ্রাজুয়েট পাশ পিউ, মাত্র ৪৫ টাকায় মিলছে পোলাও-মাংস

ইন্টারনেটের যুগে বেড়েছে প্রচার। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বড় বড় দোকানরা নিজেদের প্রচার করে থাকেন। এখন অনেক ছোট ছোট দোকানদাররাও ব্লগারদের মাধ্যমেই ভাইরাল হয়ে যান। তাতে লাভবান হন দুপক্ষই। দোকানে ঠিক যেমন বিক্রি বাড়ে আবার অনেক সময় ওই ভিডিও মালিকের ভিউজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকাও বাড়ে। আমরা এমন কত খাবারের দোকান দেখেছি যারা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ফুড ব্লগাররা ছোটখাটো দোকান গুলিতে খাবারের খোঁজ দিয়ে থাকেন মানুষকে। সেই দোকানের খাবারটি কেমন বা কেমন পরিবেশন করে খাবারটি দেওয়া হচ্ছে সবদিকেই নজর থাকে এই ফুড ব্লগারদের। নন্দিনী দি, ফোন পে পেটাই পরোটা, অরুণদার দোকান থেকে শুরু করে বাচ্চার বিরিয়ানি- ইন্টারনেটের যুগে এদের সবাই ফেমাস হয়েছেন ফুড ব্লগারদের দৌলতেই।

বড় বড় রেস্টুরেন্টে আমরা অনেক সময় খেয়ে থাকি তবে রাস্তার ছোটখাটো দোকানেও খেতে হয় মাঝেমধ্যে। দরকার পড়লে ভরসা ওই রাস্তার পাশের দোকানগুলি। ইন্টারনেটে অনেকেই খুঁজে থাকেন কম দামে কোথায় ভালো খাবার পাওয়া যাচ্ছে, আবার সঠিক দামে ভালো কম্বো পাওয়া যাচ্ছে কোথায়। পোলাও আলুর দম, ফ্রাইড রাইস চিলি চিকেন এসব কম্বো খুঁজতে ফুড ব্লগারদের ভিডিও দেখেন অনেকে। এবার বং ইনসেন চ্যানেলের তরফ থেকে চুঁচুড়ার এক লড়াকু দিদির দোকানের খাবার সকলের সামনে তুলে ধরল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বং ইনসেনের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক গ্রাজুয়েট পাস করা মেয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে কম্বো আইটেম নিয়ে দোকান শুরু করে। আগে দোকান চালাত তার বাবা। বিক্রি হত সকালের জলখাবার। তবে বাবার শরীর আর ভালো নেই বয়স হয়েছে বাবার পাশে দাঁড়াতে সংসারের হাল শক্ত হাতে ধরতে এবার গ্রাজুয়েট পাশ পিউ দাস। পিউয়ের বাবার কথায়, “আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মেয়ে আমি খুশি হয়েছি। আমার শরীর ভালো নয়, খুব ভালো দোকান চালাচ্ছে।”

চুঁচুড়া এলাকার কোর্ট রোডে, ফ্রাইড রাইস আলুর দম, পোলাও মাংস কম্বো বিক্রি করছে পিউ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে এই দোকান। তাই দুপুরে ভিড় চোখে পড়ার মতো। দুপুর ১১টা থেকেই খাবার নিয়ে বসেন‌ পিউ। মাত্র ৪৫ টাকার বিনিময়ে পেট ভরা খাবার, সেখানেই চুঁচুড়া এলাকার বহু বাসিন্দায় এবং সেখানে কাজ করতে আসা অনেকেই এই দোকানের খাবার খেয়েছেন। এই নতুন কম্বো নিয়ে আসা দোকানটি হয়েছে মাত্র ২৭ দিনের। পিউ জানাচ্ছেন, সকালের ভালোবাসাতে দুপুর তিনটের মধ্যেই সব খাবার শেষ হয়ে যায়। তারা ভবিষ্যতে খাবারের পরিমাণ আরো বাড়াতে চলেছে।

RELATED Articles