Theft at Ratna Bhandar of Puri Jagannath Temple: স্বয়ং ভগবানের ঘরেই চুরি! এমনটাও সম্ভব? কিন্তু এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল এবার পুরীর জগন্নাথদেবের রত্নভাণ্ডার নিয়ে। সেই রত্নভাণ্ডারে থাকা অমূল্য কোনও রত্ন চুরির অভিযোগ উঠেছে (Theft at Ratna Bhandar of Puri Jagannath Temple)। আর তা নিয়ে গোটা শ্রীক্ষেত্রে তুমুল শোরগোল।
জগন্নাথদেবের রত্নভাণ্ডার নিয়ে নানান রহস্য ও অলৌকিক কল্পনার অন্ত নেই। দ্বাদশ শতকের সেই রত্নভাণ্ডার খোলা হয়েছিল কিছুদিন আগেই। প্রায় ৪৬ বছর পর খোলা হয়েছিল এই রত্নভাণ্ডার(Theft at Ratna Bhandar of Puri Jagannath Temple)। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ওড়িশার নতুন সরকার আগের কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গড়েছিল। সেই কমিটির তদারকিতেই খোলা হয়েছিল রত্নভাণ্ডারের ভিতর ও বাইরের প্রকোষ্ঠ। গত ১৪ ও ১৮ জুলাই সেই প্রকোষ্ঠ থেকে সমস্ত অলঙ্কার, সোনাদানা, মুদ্রা, অমূল্য রত্ন বের করে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল অস্থায়ী স্ট্রংরুমে।
এই রত্নভাণ্ডারের সম্পদ ও মেরামতির জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির এক সদস্যই এবার রত্নভাণ্ডারে চুরির অভিযোগ এনেছেন। তাঁর কথায়, রত্নভাণ্ডারের দ্বিতীয় বা ডুপ্লিকেট চাবি খুলে কেউ বা কারা হয়ত আগেই সেখান থেকে মূল্যবান গয়না ও সামগ্রী সরিয়ে ফেলেছে (Theft at Ratna Bhandar of Puri Jagannath Temple)।
আসলে এই নিয়ে প্রথম সন্দেহ দানা বাঁধে যখন গত ১৪ জুলাই কমিটির তরফে তিনটি তালা ভাঙা হয়। সেই সময় জানা যায়, মন্দির প্রশাসনের কাছে রত্নভাণ্ডারের যে ডুপ্লিকেট চাবি ছিল, তা কাজ করছে না। ফলে তালা ভাঙা হয়েছিল। এরপর গত সোমবার চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ রথের পৌরোহিত্যে কমিটির বৈঠকের পর এক সদস্য বলেন, ডুপ্লিকেট চাবি কাজ করছিল না বলেই তালা ভাঙা হয়েছিল। তাঁর কথায়, এর থেকেই প্রমাণ হয় যে এর নেপথ্যে কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল। তিনি জানান, মূল্যবান সামগ্রী হাতানোর জন্য হয়ত তা আগের থেকেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল (Theft at Ratna Bhandar of Puri Jagannath Temple)।
২০১৮ সাল থেকেই রত্নভাণ্ডারের ভিতরের প্রকোষ্ঠের আসল চাবি হারিয়ে গিয়েছে। এরপরই ওড়িশার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ওড়িশা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঘুবীর দাসের নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কমিটির সদস্য রাজস্থান ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আমলা মহান্তি জানান, ফৌজদারি তদন্তের সুপারিশ করার এক্তিয়ার কমিটির নেই। জানা যায়, ভাণ্ডারের ভিতরের প্রকোষ্ঠে রয়েছে একটি স্টিলের আলমারি, তিনটি কাঠের আলমারি, একটি লোহার সিন্দুক ও দুটি কাঠের সিন্দুক। এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি কাঠের আলমারিতেই তালা দেওয়া ছিল।





