আর জি কর খুন ধর্ষণকাণ্ডের আজ এক সপ্তাহ পার। গত সপ্তাহে নারকীয় অত্যাচার করে খুন করা হয় আর জি কর হাসপাতালের এক মহিলা চিকিৎসককে। ওই সরকারি হাসপাতালে যে বহু অনৈতিক কাজ দীর্ঘদিন ধরে হত তার লম্বা লিস্ট এবার বাইরে আসছে। সদ্য প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ থেকে শুরু করে বহু মানুষই যে এই সমস্ত অনৈতিক কাজকর্মের কথা খুব ভালোভাবেই জানতেন তা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।
আতঙ্কের অপর নামে পরিণত হয়েছে আর জি কর। কোন সত্যি জেনে গিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক যার জন্য এই নির্মম পরিণতি হল তার? এ যে শুধুই ধর্ষণ, খুনের ঘটনা তা নয়। এর পিছনের হয়েছে অনেক বড় চক্রান্ত এমনটাই মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে এই খুন ও ধর্ষণের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ফরেন্সিক রিপোর্ট যেখানে বলছে এই ঘটনা একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয় সেখানে শুধুমাত্র সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে গ্রেফতার করেই ক্ষান্ত হয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। এরপরই আদালতের নির্দেশে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই ঘটনার কেস।
যদিও শুরু থেকেই বিষয়টা চাপা দেওয়ার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল কলকাতা পুলিশের মধ্যে। কিন্তু তিলোত্তমার মৃত্যু আগুন জ্বালিয়ে দেয় বাংলায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজও সোচ্চার বাংলার জনগণ। রাত দখলের রাতে ফের হয় আর জি করে হামলা। ক্রমশই বাঙালির ক্ষোভ তীব্রতর হচ্ছিল।
বিভিন্ন সংগঠনের, আন্দোলন, বনধ-এর মাঝে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবার মিছিলে বেরিয়ে পড়লেন। যদিও কথায় কথায় পদযাত্রার অভ্যেস তার বেশ ভালোই আছে। আর এই ক্ষেত্রে অপরাধী সঞ্জয় রাইয়ের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রী, পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রক যার অধীনে পুলিশ মন্ত্রক যার অধীনে এতদিন যিনি পদে আসীন থেকে কিছু করতে পারলেন না, আজ তিনিই অপরাধীর শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়লেন! শুধু কি তাই? এতদিন তৃণমূলের যে সমস্ত নারী নেত্রীদের দেখা যাচ্ছিল না তারা সবাই ছিলেন। সায়ন্তিকা, সায়নী, জুন! বড়ই বিচিত্র দেশে কি কি না দেখতে হয়!





