তৃণমূলের অন্দরের গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছেড়ে দিলেন অভিষেক, এবার তা সামলাবেন সুব্রত বক্সি, আর জি কাণ্ডের জেরে ঘাসফুলে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব?  

আর জি কর (RG kar) হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে রাত দখলের লড়াই যেমন মেয়েরা নেমেছিল তেমনি রাজ্য (west bengal) রাজনীতি হয়ে উঠেছিল উত্তাল। বিরোধী থেকে শুরু করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta Banerjee) পর্যন্ত দোষীদের শাস্তি এবং ফাঁসির দাবিতে পথে নেমেছেন। এই আর জি কর কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলের (TMC) অন্তরে দেখা গেল ক্ষোভ! সংবাদ মাধ্যমে যোগাযোগের দায়িত্ব ছাড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)

তৃণমূল কংগ্রেসের দলের ক্ষেত্রে রাজ্য ও রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কী উত্তর দেওয়া হবে বা দলের প্রতিনিধিরা কীভাবে বিষয়টি সামাল দেবে সেই পুরো বিষয়ের দায়িত্ব সামলানো হতো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের তরফ থেকে। যে কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে থাকে, অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ এমন কোন ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব থাকে কোন ঘটনা ঘটলে প্রেস কভারে কু বলা হবে সেটা তারাই নির্ধারণ করেন যাতে দলের সকলের সুর এক হয়।শুক্রবার আর জি কর কাণ্ডের ঘটনার ফলেই এইবার সেই দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তর। বর্তমানে এই কাজ করবেন সভাপতি সুব্রত বক্সীর দফতর।

এই বিষয়টি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলের মধ্যে নবীন প্রবীণের দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশিত হয়ে গেল। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? তৃণমূল সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে বৈঠক করে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত নির্দেশিকা দিয়ে দেবেন। আর‌ও শোনা যাচ্ছে যে গত বৃহস্পতিবার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর সংবাদমাধ্যম সামলানোর কাজ থেকে নিজেদের অব্যাহতি দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে যে, আরজিকর কাণ্ড নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জী পুলিশ প্রশাসনের কাজ নিয়ে অসন্তুষ্ট রয়েছেন।

কেন দফতর ছাড়লেন অভিষেক?

অভিষেক ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য অনুযায়ী অভিষেক মনে করছেন যে আগামী বিধানসভা ভোটে জেতার জন্য এখন থেকেই প্রশাসনিক সংস্কার দরকার এমনটা না হলে ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সংগঠন দিয়ে সামলানো যাবে না। উল্লেখ্য, আর জি কর হাসপাতালে বুধবার রাতে হামলার পর অভিষেক নিজেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার সাথে কথা বলে দাবি করেছিলেন যে, দল রং, না দেখে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে। একই সাথে তিনি এও জানান যে, চিকিৎসকদের দাবী এবং আন্দোলন সঙ্গত ও ন্যায্য। তারা সরকারের থেকে সুরক্ষা আশা করতেই পারেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই কার্যে যুক্ত থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার দাবীও তিনি করেন এবং সেই কথা নিজে টুইটারে পোস্ট করেও তিনি জানান।

কুনাল ঘোষের বক্তব্য

অভিষেকের দফতর ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসের নবীন প্রবীণদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এলো। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh) পোস্ট করে লিখেছেন, “RGKar. আমরাও প্রতিবাদী। দোষী/দের ফাঁসি চাই। কিন্তু অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও বাংলার বিরুদ্ধে, শকুনের রাজনীতি বামরাম। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব রুখতে লড়াইতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেনাপতি অভিষেক কেও সক্রিয়ভাবে সামনে চাই। আমাদেরও কিছু ভুল শুধরে সঠিক পদক্ষেপে সব চক্রান্ত ভাঙতেই হবে।”

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles