আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্যের পরিস্থিতি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় যে সে একা যুক্ত থাকতে পারে না, তেমনটাই দাবী নানা মহলে। এবার অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের সম্পর্কে আর তথ্য পেতে তার ঘনিষ্ঠ এএসআই অনুপ দত্তকে তলব করেছিল সিবিআই। সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছনোর পর ক্যামেরা দেখেই আচমকাই দৌড় লাগান তিনি। প্রশ্ন উঠছে, তিনি কী লুকোনোর চেষ্টা করছেন।
আজ, মঙ্গলবার আর জি কর ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ঘনিষ্ঠ এএসআই অনুপ দত্তকে তলব করেছিল সিবিআই। সেই তলবে সাড়া দিয়ে এদিন বিকেলের দিকে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকরা। ক্যামেরা দেখেই এদিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড় দেন অনুপ দত্ত। দৌড়াতে গিয়ে একবার পিছলে পড়েও যাচ্ছিলেন। সাংবাদিকরা তাঁকে সতর্কও করেন যাতে তিনি না দৌড়ান। এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সঙ্গে ধাক্কাও লাগে তাঁর। তাতে থামানো যায়নি তাঁকে। সউরে তিনি ঢুকে যান কমপ্লেক্সের ভিতর।
সিবিআই সূত্রে খবর, এই অনুপ দত্তের সঙ্গে নাকি আর জি করের ঘটনার দিন রাতে ফোনে কথা বলেছিল সঞ্জয়। ঘটনা ঘটানোর পর অনুপকেই ফোন করে সে। তাঁকে কী ঘটনার সম্পর্কে কিছু জানিয়েছিল সঞ্জয়? সিবিআই অনুপের থেকে জানতে চায়, সেই রাতে কী কথা হয়েছিল দুজনের? আর জি করের নৃশংসতার কথা কি পুলিশ কর্মীকে ফোনে জানিয়েছিল সঞ্জয়? তাঁর প্রশয়েই কি রাতে পুলিশ বারাকে ফিরে ঘুম দিয়েছিল সঞ্জয়?
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশ সঙ্কয়কে যে ব্যারাক থেকে গ্রেফতার করেছিল, সেখানে খোঁজখবর চলছে। সঞ্জয়কে সেখানে থাকার ব্যবস্থা কে করে দিয়েছিল, সেই নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের একটা অংশ জানিয়েছেন যে অনুপ দত্তই সঞ্জয়কে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এই অনুপ দত্ত একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর হলেও বাহিনীতে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে। কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেরার কমিটির মিডল র্যাঙ্কের নেতা তিনি। ফলে আর জি কর ঘটনা নিয়ে সঞ্জয় তাঁকে কিছু বলেছিল কী না, তা জানতে চায় সিবিআই।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিসকের অর্ধনগ্ন দেহ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হয় সঞ্জয় রায়। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করেছিল যে সে-ই দোষী। তবে এই মামলা সিবিআইয়ের কাছে যাওয়ার পর সঞ্জয়ের বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য মেলেনি। সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি মিলেছে। এই টেস্টের মাধ্যমে নানান তথ্য উঠে আসবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।





