সমাজ যে পতিতাদের (prostitute) ব্রাত্য করে রেখেছে,সেই পতিতাদের বাড়ি থেকে আনা মাটি (Soil) ছাড়া দুর্গাপুজো (Durga Puja) হয় না। শাস্ত্র মেনেই চিন্ময়ী দেবীর কাঠামো তৈরি করতে পতিতালয়ের (Brothel) মাটি লাগে। আসলে সমাজ যাদের দূরে ঠেলে রেখেছে আদি শক্তি তাদেরকেই আপন করে নিয়েছেন। এছাড়াও পৌরাণিক নানান রকম কাহিনী আছে এর পেছনে, রয়েছে শাস্ত্রের ব্যাখ্যা।
একটি মতে বলা হয় যে, একজন পুরুষ যখন পতিতার বাড়িতে যান এবং সেখানে গিয়ে নিজের কামনা বাসনা পূরণ করেন তখন তিনি তার জীবনের যাবতীয় পুণ্য ফেলে আসেন সেই পতিতালয়ের মাটিতে, বদলে সেখান থেকে মুঠো ভর্তি পাপ নিয়ে যান। সেই কারণে প্রতিরাতে সেখানে যাওয়া অসংখ্য পুরুষ মানুষের পুণ্যে অভিষিক্ত হয়ে আছে সেখানকার মাটি।
এছাড়া বলা হয় যে পতিতারা নিজেদের আত্ম বলিদান এর দ্বারা সমাজের পুরুষের কামনা-বাসনা নিজেরা ভোগ করে সমাজকে বিশুদ্ধ রাখবার চেষ্টা করেন। সেই কারণে আদি শক্তির পুজোতে পতিতালয়ের মাটি হয়ে যায় আবশ্যিক।
আরও একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বলা হয়, বিশ্বামিত্র ঋষি একবার ইন্দ্রের আসল লাভ করবার জন্য ঘোর তপস্যায় বসেন। দেবরাজ ইন্দ্র তার ধ্যান ভঙ্গ করার প্রচুর চেষ্টা করেন কিন্তু সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে শেষকালে স্বর্গের অপ্সরা মেনকাকে তিনি পাঠান। মেনকার নাচেই অসাধ্য সাধন হয়, ধ্যান ভাঙ্গে ঋষির।
ইন্দ্র যে কাজ করতে পারেন নি সেই কাজ করলেন স্বর্গের এক অপ্সরা। এছাড়া মহামায়ার যে নয়টি রূপ পুজিত হয়, তার মধ্যে নবম রূপটি হলো পতিতালয়ের প্রতিনিধি স্বরূপা। মানুষ দেবী বন্দনায় তাকেই পুজো করেন। এই কারণে পতিতালয়ের মাটি ছাড়া চিন্ময়ীর কাঠামো পূর্ণ হয় না।
আর জি কর কাণ্ডে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে, সবাই যখন ঘরের মেয়ের বিচার চাইছে, তখন এই লড়াইয়ে সামিল হলো পতিতারাও। হ্যাঁ, শোনা যাচ্ছে যে, যৌনকর্মীরা বলছে, যৌনপল্লীর মাটি তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দেবে না, যতক্ষণ না আর জি কর কাণ্ডের সুবিচার হচ্ছে। এভাবেই নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করলেন, সমাজ যতই তাদের ব্রাত্য করে রাখুক, তারা এই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।






