মহামারি করোনা মোকাবিলায় এই মুহূর্তে দেশজুড়ে লকডাউন। যার জন্য জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত দোকানপাট, কলকারখানার উৎপাদন সব কিছুই বন্ধ। যার জন্য একদিকে অর্থনীতিতে ব্যাপক টান অন্যদিকে দিনমজুরদের সংসারে টান। কিন্তু সরকার নিজের অর্থভান্ডারকে ভর্তি করার উপায় খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু দিনমজুরদের টান মিটবে কি?
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেয়েছে। যা শুনে সুরাপ্রেমীদের চিন্তা বেড়ে যেতে পারে। লকডাউন চলাকালীন এমনিতেই মদ না পাওয়ায় সুরাপ্রেমীদের মনখারাপ। অন্যদিকে লকডাউন উঠলেই অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে মদ। কারণ, দেশি-বিদেশ সব ধরনের মদের উপর অতিরিক্ত আবগারি কর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ দপ্তর।
সূত্রের খবর, গত ৭ এপ্রিল অর্থ দপ্তর যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে উল্লেখ আছে দেশি-বিদেশি সবধরনের সুরায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত আবগারি কর চাপানো হবে। তার উপরে রয়েছে জিএসটির নির্দিষ্ট মূল্য। তা যোগ করে মদের নতুন দাম বর্তমানের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি হবে। অর্থাৎ এখন যে দামে মদ বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে হবে। ৯ তারিখ থেকে এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের দরুন বাজারে মদ বিক্রি বন্ধ, তাই এখনই নয়া দাম লাগু করা হবে না। তবে লকডাউন উঠে গেলেই মদের দাম একলাফে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
করোনা পরবর্তী সময়ে অৰ্থভান্ডারের টান কমানোর একটা উপায় হিসেবে রাজ্যের অর্থ দপ্তর মদের উপর আবগারি কর চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। তবে এই অতিরিক্ত কর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে, আশঙ্কা সুরাপ্রেমীদের। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কতটা পূর্ন হবে রাজ্যের কোষাগার? এতে মদ্যপায়ীদেরই বা কি হবে? দামের জন্য তাদের নেশা কি কিছুটা কাটবে? নাকি ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত দাম দিয়েই তাঁরা মদ কিনবেন? সব উত্তর লকডাউন ওঠার পরই পাওয়া যাবে।





