আর জি কর কাণ্ড নিয়ে রাজ্যের নানান প্রান্ত এই মুহূর্ত প্রতিবাদমুখর। সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ ন্যায় বিচারের দাবীতে আন্দোলন করছেন। তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গর্জে উঠেছেন সকলে। কর্মবিরতি চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। এবার এই আন্দোলনরত চিকিৎসকদেরই
গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। সেদিন কর্মবিরতিতে থাকা জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। গতকাল, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন তাদের কর্মবিরতি চলবে। গতকাল, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অভিযান করেন তারা। সেখানেই চলছে তাদের অবস্থান বিক্ষোভ। এমন আবহে এবার আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগলেন তৃণমূল নেতা।
তৃণমূলের এক সভা থেকে বাদুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য তথা তৃণমূল নেতা চন্দন মুখোপাধ্যায় আর জি কর কাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবী তোলেন। এরই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে পদত্যাগের দাবী উঠছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন তৃণমূল নেতা বলেন, “আপনি স্বপ্ন দেখছেন, একটা নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেবেন, ২১৫টা বিধায়ক, ২৯টা সাংসদ, চার মাস আগে নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ভাবছেন এই সরকারটাকে ফেলে দিয়ে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন, কেউ অর্থমন্ত্রী হবেন, এটা হয় না এখানে। আপনাকে ভোটে জিতেই আসতে হবে”।
এরপরই চিকিৎসকদের আক্রমণ করতে থাকেন চন্দন মুখোপাধ্যায়। বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক, আপনি তাকে অবমাননা করছেন মানে দেশের সার্বভৌমত্বকে অবমাননা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করছেন মানে সংবিধানের বিরোধিতা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিরোধিতা করছেন মানে আপনি দেশদ্রোহী। আপনি দেশদ্রোহী ডাক্তার। ডাক্তার তুমি দেশদ্রোহী”।
তাঁর সংযোজন, “আমরা এই ডাক্তারদের দেখতে চাই না। ডাক্তারদের আন্দোলনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা আছে। কিন্তু যে ডাক্তারদের কারণে মায়ের কোল খালি হয়ে যাচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীকে হারাচ্ছে, স্ত্রী-স্বামীকে হারাচ্ছে আমরা সেই ডাক্তার চাই না”।
আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভে অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রীকে দেখেই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান আন্দোলনকারীদের
বলে রাখি, প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য কর্তাদের ইস্তফা-সহ ৬ দফা দাবী রয়েছে তাদের। সেই দাবী পূরণ না হলে তারা বিক্ষোভ থামাবেন না বলে জানিয়েছেন। নবান্নের তরফে বৈঠকের আমন্ত্রণও প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। তাদের দাবী পূরণ হয় কী না, এখন সেটাই দেখার!






