‘যেতে পারি কিন্তু কথার পিঠে কথা হবে, গোটা আলোচনার লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে…’, বৈঠকের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে শর্ত আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের

স্বাস্থ্য ভবন অভিযান জুনিয়র চিকিৎসকদের। লালবাজার অভিযানে তারা ২২ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন। তবে এবার পার হয়েছে ২৪ ঘণ্টা। এখনও স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থানে আন্দোলনকারীরা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় করেই নিজেদের দাবীতে অনড় তারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনার প্রস্তাবে এবার সায় জুনিয়র চিকিৎসকদের। মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু শর্ত বেঁধে দিলেন তারা।

গতকাল, মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের তরফে জুনিয়র চিকিৎসকদের ইমেল করে জানানো হয়েছিল, নবান্ন তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায়। জুনিয়র চিকিৎসকদের ১০ জন প্রতিনিধি যেন এদিন রাতেই নবান্নে আসেন। তবে সেই আমন্ত্রণকে ‘অপমানজনক’ ব্যাখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন চিকিৎসকরা।

তবে আজ, বুধবার দুপুরে জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়, স্বাস্থ্য সচিব যে ইমেল পাঠিয়েছেন, তাতে কোথাও লেখা ছিল না যে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় বসবেন। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ তাদের তরফে নবান্নে ইমেল পাঠানো হয়েছে। আলোচনায় বসার জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

এই শর্তের মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল, তাদের মধ্যে থেকে অন্তত ৩০ জন প্রতিনিধিকে আলোচনায় ডাকতে হবে। চিকিৎসকরা জানান, আলোচনা মানে কথার পিঠে কথা হবে, তাদের বাঁধা দেওয়া যাবে না। আর এই গোটা আলোচনা পর্বের লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখতে পান।

প্রসঙ্গত, নিজেদের ৫ দফা দাবী নিয়ে  স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের যে দাবীগুলি ছিল, তা হল তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচার করতে হবে, দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে, সন্দীপ ঘোষকে সাসপেন্ড করে তদন্ত, যারা তথ্য লোপাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগ।

আরও পড়ুনঃ ‘যে চিকিৎসক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে, সেই চিকিৎসক দেশদ্রোহী…’, আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ‘অপমান’ তৃণমূল নেতার

তবে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে চিকিৎসকদের আরও এক দফা দাবী যোগ হ্য,তা হল স্বাস্থ্য কর্তাদের ইস্তফা। নিজেদের এই সমস্ত দাবী না মিটলে তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার আলোচনার জন্যও শর্ত বেঁধে দিলেন চিকিৎসকরা।

RELATED Articles