‘রাজনীতির খেলা চলছে, শর্ত দিয়ে কখনও আলোচনা হয় না, রাজনৈতিক ইন্ধনের জন্যই দর কষাকষি করছেন চিকিৎসকরা…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের কটাক্ষ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের

নবান্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা আখেরে হবে কী না হবে না, তা নিয়ে গোটা দিন ধরেই ছিল সংশয়। প্রথমবার প্রত্যাখান করা হলেও পরে শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসার জন্য রাজি হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সেই শর্ত মানতে নারাজ নবান্ন। উপরন্তু এবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবী করলেন, চিকিৎসকদের এই শর্ত দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।   

জুনিয়র চিকিৎসকদের শর্ত ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই আলোচনা হবে। আর গোটা আলোচনার লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে যাতে সাধারণ জনগণও তা দেখতে পান। কথার পিঠে কথা উঠবেই আলোচনায়,  একথাও জানিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু সেই শর্ত মানল না নবান্ন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও রাজ্য পুলিশের ডিজি এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, শর্ত দিয়ে কখনও কোনও আলোচনা হতে পারে না। সেই কারণেই জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা বৈঠক বাতিল করল নবান্ন। 

তাদের এই শর্ত দিয়ে আলোচনায় নারাজ নবান্ন। বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “নবান্নতে মেল এল ভোর তিনটেয়। কোনও সিএমও-তে কি এটা মেল করার সময়? এটা কি স্বাভাবিক? তাহলে কি এর পিছনে রাজনীতি লুকিয়ে আছে? আসলে রাজনীতি লুকিয়ে আছে বলেই এই ধরনের ঘটনা আমরা দেখছি। এর পরে আজ দুপুর তিনটেয় মেল করে ৬টায় আসার কথা বললেন মুখ্যসচিব। আড়াই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল ওঁদের। ১২-১৫ জনকে আসতে বলা হল। সেই মেলের উত্তর এল দু’ঘণ্টা পরে, একাধিক শর্ত-সহ। লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে, মাননীয়াকে থাকতে হবে, ডাক্তারদের যা দাবি আছে সেগুলো নিয়েই কথা বলতে হবে”।

এদিন মুখ্যসচিব বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল ১০ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল জুনিয়র ডাক্তাররা তা মানতে চাননি। আমরা যে চিঠি দিয়েছিলাম তাতে কোনও ইতিবাচক সাড়াও পায়নি। আমরা ভেবেছিলান, জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হবে। তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার শুনবে। এবং সরকার তার পর যথাসাধ্য করবে। কিন্তু দেখা গেল, ওঁরা নানান শর্ত দিচ্ছেন। এভাবে আগাম শর্ত দিয়ে খোলামেলা আলোচনা কখনও হয় না”।

এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বেশ স্পষ্টভাবেই বোঝাতে চান যে জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবিদাওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এভাবে দর কষাকষি করছেন চিকিৎসকরা। তিনি এও বলেন, “নির্যাতিতা নিহত মেয়েটি বিচার পান, এটা আসলে প্রকৃত দাবী নয়। পিছনে রাজনীতির খেলা আছে। তাই এতটা সময় লাগছে এতকিছু চিন্তা করতে। কিন্তু আসল লক্ষ্য হচ্ছে, কোনও আলোচনা না করা। তাই এই শর্ত আরোপ করা হচ্ছে”।

আরও পড়ুনঃ মানা হল না জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী, শর্ত দিয়ে আলোচনায় নারাজ নবান্ন, বাতিল আলোচনা সভা

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হয় যে জুনিয়র চিকিৎসকরা যেহেতু সুপ্রিম নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগ দেন নি, এর জন্য কী তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে সরকার? চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, এই বিষয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে জানানো হবে। এখনও তেমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি।

RELATED Articles