অভিনেতা তিনি কোনদিনই হতে চাননি। হতে চেয়েছিলেন বডি বিল্ডার। পড়াশোনাতেও মন্দ ছিলেন না। বি.কম পাস করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ কলেজ থেকে। সংসার চালাতে চাকরি করতে হয়েছে আদালতেও। পরবর্তীতে তাঁর অভিনয় দেখে তার ফ্যান হয়ে যান সমগ্র বাংলার দর্শকসহ সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray), তপন সিনহার (Tapan Sinha) মতো পরিচালক থেকে অমিতাভ বচ্চনও (Amitabh Bachchan)।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার। তবে এ নামে তাকে চেনে না বাঙালী। বাঙালী তাকে চেনে, রবি ঘোষ নামেই। ছোট থেকেই শরীর চর্চায় ঝোঁক ছিল রবি ঘোষের। শরীরের গঠনও ছিল দেখার মত। ব্যায়াম করতেন কলেজের ব্যায়ামগারে। অভাবে সংসারেও তিনি কিন্তু কোনওদিন অবহেলা করেননি তার শরীর চর্চাকে। তার সাথেই ‘বন্ধু মন’ নামে তৈরি করে ফেলেন একটা নাটকের দল। মহড়া চলত আশুতোষ কলেজের ছাদে।
অভাবের সংসার চালানোর জন্য চাকরি নিলেন কলকাতা পুলিশ কোর্টে। পাশাপাশি চালিয়ে যেতেন নাটকের অভিনয়। তাঁর অভিনয় দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা উৎপল দত্ত। চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে চলে এলেন রূপালী পর্দার জগতে। চেহারা সুঠাম হলেও নায়কোচিত মুখশ্রী না থাকার কারণে উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়দের ভিড়ে নায়কের চরিত্র পাননি রবি ঘোষ। কিন্তু তিনি বাজিমাত করলেন তার অভিনয় দিয়েই। তার অভিনয়ের সামনে ফিকে পড়ে যেতে শুরু করল সুন্দর মুখশ্রীর নায়করা। রবি ঘোষ শুধুমাত্র চোখ দিয়েই অভিনয় করে ফেলতে পারতেন বলে একাধিকবার জানিয়েছেন সত্যজিৎ রায় , তপন সিনহা সহ অনেক পরিচালকরাই।
অবশেষে তাঁর নাটকের অভিনয় দেখে রবি ঘোষের বাবা বুঝলেন যে তার ছেলে সত্যিই প্রতিভাবান। ছেলের ‘অঙ্গার’ নাটকের কেটে নিয়েছিলেন একসাথে ১৫ খানা টিকিট। সব বন্ধুদের নিয়ে দেখতে যাবেন ছেলের অভিনয়। তবে এত সুখ মনে হয় ছিল না রবি ঘোষের কপালে। নাটকের সাত দিন আগেই মারা যান রবি ঘোষের বাবা। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি রবি ঘোষ। কাছা গলায় দিয়েই অভিনয় করেন অঙ্গার নাটকে। সেদিন যেন অভিনয়ের প্রত্যেকটা সেকেন্ড উৎসর্গ করেছিলেন বাবাকে। তাই সেই অভিনয়ের জোরেই জিতে নিয়েছিলেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার।
দশকের পর দশক মাতিয়ে রাখলেন দর্শকদের। একটা সময় নায়কদেরও ছাপিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শুধুমাত্র রবি ঘোষের নাম দেখেই সিনেমা হলে ফেটে পড়ত দর্শকদের ভিড়। তবে বাংলা চলচ্চিত্র জগত সেভাবে কোনওদিন তাকে যোগ্য সম্মান দেয়নি। জোটেনি কিছু স্বীকৃতিও। তবুও তিনি বাঙালি দর্শকদের কাছে একজন লেজেন্ড। বাঙালি দর্শকদের কাছে আজও অমর তিনি।






