আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় একের পর এক তথ্য সামনে আসছে যা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। কতটা দুর্নীতি যে আর জি করের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রয়েছে, তা জানলে চোখ কপালে উঠতে হয়। সরকারি হাসপাতালে এহেন দুর্নীতি ভয়ানক। আর সেই দুর্নীতির কথা জেনে ফেলাই কী কাল হয়ে দাঁড়াল পিজিটি-র তরুণী চিকিৎসকের জন্য? নিজের প্রাণ দিয়ে এর দাম চোকাতে হল কী তাঁকে? সন্দীপ ঘোষের মোবাইল থেকে যে অডিও ক্লিপ পেয়েছে সিবিআই, তা থেকে তেমনটাই মনে হচ্ছে।
আর জি করের আর্থিক দুর্নীতির জেরে প্রথমে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে বায়ো মেডিক্যাল বর্জ্য বিক্রি, জাল ওষুধের ব্যবসা, মৃতদেহ নিয়ে ব্যবসা এমন নানান অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, আর জি কর থেকে যে পরিমান মেডিক্যাল বর্জ্য বের হয়, তা নাকি অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের এক তৃতীয়াংশও নয়। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল ফের ব্যবহার করা হচ্ছিল আর জি করে।
এখানেই শেষ নয়, আর জি করে খারাপ মানের ওষুধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও জানা যাচ্ছে। আর এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ‘তিলোত্তমা’। সিবিআই সূত্রে খবর, তরুণী চিকিৎসকের নানান পরিচিতরা নাকি তাঁকে এমন দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে বারণ করেছিলেন। তবে তিনি তা শোনেন নি। সন্দীপ ঘোষের ঘরে গিয়ে এই দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি, এমনটাই জানা যাচ্ছে।
তিলোত্তমা ও সন্দীপ ঘোষের মধ্যে এই কথোপকথনের সময় সেখানে আর জি হাসপাতালের দুই আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যেই একজন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। সেই ব্যক্তিই জানিয়েছেন, সন্দীপ রায় তিলোত্তমাকে হুমকি দিয়েছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্রিব হওয়ার কারণে। সন্দীপ ঘোষ নাকি তাঁকে বলেছিলেন, তিনি যদি এত বেশি কথা বলেন, তাহলে তাঁর আর পাশ করা হবে না।
অ্যান্টিবায়োটিক থেকে শুরু করে স্নায়ুর ওষুধ, প্যারাসিটামল, লিভারের ওষুধে জালিয়াতি হয়েছে বলে খবর। তা নিয়ে অভিযোগ করা হলেও সন্দীপ ঘোষ কোনও পদক্ষেপ করেন নি। আর তা নিয়ে প্রশ্ন করার কারণেই সন্দীপ ঘোষ হুমকি দিয়েছিলেন তিলোত্তমাকে। শুধু তাই নয়, সন্দীপ ঘোষের বাজেয়াপ্ত করা ফোন থেকে একটি অডিও পেয়েছে সিবিআই, যাতে অন্য একজনকে সন্দীপ ঘোষকে বলতে শোনা গিয়েছে, “মেয়েটা বড্ড বাড়াবাড়ি করছে”।
আরও পড়ুনঃ চুরি করার অপবাদ দিয়ে মহিলাকে বিবস্ত্র করে গণপিটুনি, নির্বাক দর্শক হয়ে দেখল সিভিক পুলিশ!
তাহলে এই ‘বাড়াবাড়ি’র কারণেই এমন নির্মমভাবে খুন হতে হল তিলোত্তমাকে? এমন দুর্নীতি নিয়ে মুখ বন্ধ রাখেন নি বলেই তাঁর মুখ চিরকালের মতো বন্ধ করে দেওয়া হল? এই গোটা ঘটনায় সন্দীপ ঘোষ কী সরাসরি জড়িত? আর কারা কারা যুক্ত এই কাজে? কাকেই বা ফোন করে ‘বাড়াবাড়ি’র কথা জানাচ্ছিলেন সন্দীপ? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সিবিআই।





