আন্দোলনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা? ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মেলেনি অনুমতি, আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে SSKM-এই হবে জুনিয়র চিকিৎসকদের গণকনভেনশন

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার ৫০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কোনও ধারণাই মেলেনি সেভাবে। আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসিকে গ্রেফতার করা হলেও, সেভাবে কোনও তথ্য এখনও অধরা। ফলে ঘটনার ৫০তম দিনে গণকনভেনশনের ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

আর জি কর ঘটনার প্রতিবাদে প্রথম দিন থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে টানা ১১ দিন অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন তারা। এখন আংশিক কর্মবিরতি তুলে জরুরি পরিষেবার কাজে যোগ দিলেও তাদের আন্দোলন যে থেমে থাকবে না, তা তারা আগেই জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই এই গণকনভেশন।

জানা গিয়েছে, ২৩টি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছেন। আর জি কর কাণ্ডের ৫০তম দিনে তারা স্থির করবেন আগামিদিনে তাদের আন্দোলনের রূপরেখা কী হতে চলেছে। কোন পথে আন্দোলনকে নিয়ে যেতে চান তারা, তা স্থির হবে আজ, শুক্রবার। এই গণকনভেনশনে থাকবেন সিনিয়র চিকিৎসক ও সমাজের বিশিষ্ট জনরাও।   

জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী, প্রথমে এই গণকনভেনশন ধনধান্য অডিটোরিয়ামে হবে বলে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হয়। বাইপাসের ধারের এলতি বেসরকারি জায়গায় এক সঙ্গীতানুষ্ঠানের পর এই গণকনভেনশন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণে এসএসকেএমেই আজ, শুক্রবার বিকেল ৪টের সময় গণকনভেনশনের ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।  

অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “এটাও আমার মনে হয় থ্রেট কালচারেরই অংশ। আমরা তো প্রথম থেকেই বলেছি, আমাদের আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক রঙ নেই। সেই জায়গায় ধনধান্য না দেওয়া, আমার মনে হয় কর্মসূচিকে বাধা দেওয়া। যেমন আর জি করের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করে দেওয়া হয়েছিল। সেরকমই একটা বিষয়”।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি সন্দীপ ঘোষকে চিনতাম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিন্তু আমি বরাবর প্রতিবাদ করেছি…’, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে কী জানালেন মদন মিত্র?

সিনিয়র চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরীর কথায়, “এখন আন্দোলন গণআন্দোলনের চেহারা নিয়েছে। সেইখানে দাঁড়িয়ে কোন জুনিয়র চিকিৎসক কোথায় দাঁড়িয়ে মিটিং করছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিটা রাজপথে ধ্বনিত হচ্ছে কন্ঠস্বর। কিন্তু আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের অবিশ্বা, ভরসাহীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে! সেটা মেরামতির প্রয়োজন। আর সেক্ষেত্রে সরকারকেই যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে।

RELATED Articles